জামায়াত দিলো ৪৪ প্রার্থী, অর্ধেক স্থানে ছাড়ের আশা

জামায়াতঅবশেষে ৪৪ পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন স্থগিত থাকা জামায়াতে ইসলামী। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দলটি রংপুর বিভাগে ৯, রাজশাহী বিভাগে ১৭, খুলনা বিভাগে ১০, সিলেট বিভাগে ৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ এবং ঢাকা বিভাগে মাত্র ১ জনকে মনোনীত করেছে। ইতোমধ্যে স্ব-স্ব স্থানে নির্বাচন কমিশনে তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই ৪৪টি স্থানের মধ্যে বিএনপিজোটের কাছে অন্তত ২২ টি পৌরসভায় সমর্থন চায় জামায়াত। পাশাপাশি বর্তমান মেয়র পদে আছে এমন ৫টি পৌরসভায় কোনও ধরনের ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকরা। জামায়াতের নির্ভরযোগ্য একাধিক দায়িত্বশীলদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইতোমধ্যে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে জামায়াতের পৌরসভা নির্বাচনের মনোনীতদের নাম ও এলাকার নামের তালিকা এসে পৌঁছেছে। এর আগে বিগত দুই সপ্তাহ ধরে দলটির নেতারা গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সংখ্যা বলে আসছিলেন। এ নিয়ে নানা পত্রিকায় সূত্র দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এ ব্যাপারে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আইনশৃংখলাবাহিনীর নজরদারি, মামলা, গ্রেফতার ইত্যাদি এড়াতেই মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি সঠিক সংখ্যাটিও জানানো হয়নি।

জামায়াত সূত্র জানায়, প্রথম দিকে ধারণা করা হচ্ছিল, নির্বাচন কমিশনের আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে মার্কা হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নেওয়া হবে। পরবর্তীতে দলটির নির্বাচনি সমন্বয় কমিটি ও আইনবিদরা নির্বাচন কমিশনের আইন পর্যালোচনা করেন। ফলশ্রুতিতে মার্কা হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ নেওয়ার কোনও সুযোগ থাকেনি। এ কারণে বিএনপি প্রার্থীদের তালিকা জমা দেওয়ার পরই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে জামায়াত। প্রার্থীদের স্বতন্ত্র মার্কা নিয়েই নির্বাচনের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।


জানা গেছে, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইজ্জত উল্লাহ, আবদুর রবের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনি কমিটি রয়েছে। এই কমিটি সারাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই ৪৪ প্রার্থীর বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে।

অর্ধেক স্থানে ছাড়ের আশা জামায়াতের

পৌরসভা নির্বাচনে ৪৪টি স্থানের মধ্যে অন্তত ২২টি স্থানে বিএনপিজোটের সমর্থন চায় জামায়াত। মনোনীত প্রার্থীদের যোগ্যতা, আঞ্চলিক ক্ষমতা, স্থানীয় প্রভাব ও ভোটের হিসেব করে এই ২২টি অঞ্চলকে এগিয়ে রেখেছেন দলটির শীর্ষনেতৃত্ব।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখনও কতটি এলাকায় সমর্থন পাওয়া যাবে, সেটি নিশ্চিত হইনি। এটি বিএনপি জানে। জোটের দায়িত্বশীল নেতারা এ নিয়ে আলোচনা করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে কুমিল্লা জেলার একজন জনপ্রতিনিধি ও কুমিল্লা শহর ছাত্র শিবিরের সাবেক এক সভাপতি বলেন, ন্যূনতম ২২টিতে সমর্থন পাবে জামায়াত। এটি অধিকার। জেলজুলুম, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ দেশের নানা স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের অবদান তো বিএনপি অস্বীকার করতে পারবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জোটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শরিকরা বিএনপির কাছে চাইবে। তো চাওয়ার সময় তো কত কিছুই চায়। আর পৌরসভা নির্বাচন তো স্থানীয় সরকারের নির্বাচন। এ কারণে ঢাকা থেকে চাইলেই তো হবে না, স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রভাব বিবেচনা করে সমর্থন দেওয়া হবে। নৌকা প্রার্থীর বিপরীতে ধানের শীষকেই শক্তিশালী মনে করে দেশবাসী।

জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান খান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জোটের শরিকদের কে কত পৌরসভায় সমর্থন পাবে, এটি নিয়ে জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। দু-একদিনের মধ্যে জোটের বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকেই জানা যাবে কে কোথায় সমর্থন পাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, জামায়াতকে কয়টি স্থানে ছাড় দেওয়া হবে বা সমর্থন দেওয়া হবে, এটি চূড়ান্ত হয়নি। বেগম জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পরই হয়তো তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এ নিয়ে জামায়াতের একজন বিভাগীয় নেতা বলেন, শুনেছি ১২৩টি স্থানে দলের নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আর নির্বাচনে তো জামায়াত নেই, আছে স্বতন্ত্র। তবে এই নেতা নিজের দাবির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ উল্লেখ করতে পারেননি।

বর্তমান পৌরসভাগুলো না ছাড়ার সিদ্ধান্ত

বর্তমানে ৪টি স্থানে মেয়র পদে এবং ১টি স্থানে প্যানেল মেয়র পদে রয়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এই ৫টি স্থানে কোনও ছাড়ের পক্ষে নয় দলটির নীতিনির্ধারকরা। এলাকাগুলো হচ্ছে  দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ (মেয়র মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ), রাজশাহী বিভাগে গোদাগাড়ি (মেয়র আমিনুল ইসলাম), পবার কাটাখালী  (মেয়র  মাজেদুর রহমান ), রায়গঞ্জ  মেয়র মোশাররফ হোসেন আকন্দ) এবং যশোর জেলার চৌগাছায় প্যানেল মেয়র হিসেবে রয়েছেন মাস্টার কামাল আহমেদ।

দলটির মজলিসে শূরার এক সদস্য জানান, বর্তমানে মেয়র পদ আছে এমন পৌরসভায় কোনও ছাড় হবে না। পাশাপাশি এসব স্থানে বিএনপির মনোনীতরা ধানের শীষ প্রতীক পেলেও তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়ে নিতে বিএনপির হাইকমান্ডকে চাপ দেওয়া হবে। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা না বলার  কঠোর নির্দেশনা থাকায় এই নেতা নিজের পরিচয় উদ্ধৃত করতে রাজি হননি। তিনি দাবি করেন, মিডিয়ার সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ করার সম্মতি নেই দলের। একমাত্র প্রচার বিভাগের বাইরে কেউ-ই কোনও ব্যাপারে মুখ খুলতে পারেন না।

চূড়ান্ত ৪৪ জন প্রার্থী

রংপুর বিভাগ

পঞ্চগড়:                      আবদুল খালেক

ঠাকুরগাঁও, রানীশৈংকল:  মোকাররম হোসেন

নীলফামারী-জলঢাকা:      মকবুল হোসাইন

সৈয়দপুর:                    গোলাম মোস্তাকিম

দিনাজপুর-বীরগঞ্জ:        ড. এনামুল হক। তবে এই স্থানে বিকল্প হিসেবে শাহিনুর রহমানের নাম রয়েছে।

ফুলবাড়ি:                     জয়নাল আবেদিন

গাইবান্ধা:                     ফেরদৌস আলম

গোবিন্দগঞ্জ:                 আবুল কালাম আযাদ

রাজশাহী বিভাগ

পুঠিয়া:                        আহাদ আলী

গোদাগাড়ি:                  আমিনুল ইসলাম

চারঘাট:                      সাইফুল ইসলাম

তানোর-মুন্ডুমালা:          আনিসুর রহমান

পবা-কাটাখালী:              মাজেদুর রহমান

নওহাটা:                      মশিউর রহমান

নাটোর-সিংড়া:               জয়নাল আবেদিন

নলডাঙ্গা:                     নজরুল ইসলাম

নওগা-নজিপুর:              রমজান আলী

চাপাইনবাবগঞ্জ:             নজরুল ইসলাম

শিবগঞ্জ:                      জাফর আলী

নাচোল:                       ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি কারাগারে আছেন।

রহনপুর:                      মিজানুর রহমান। তিনি কারাগারে আছেন।

বগুড়া-কাহালু:               জহিরুল ইসলাম বাদশা, বর্তমানে কারাগারে।

জয়পুরহাট:                   হাসিবুল ইসলাম

সিরাজগঞ্জ-বেলকুচি:        আবদুর রাজ্জাক মিয়া

রায়গঞ্জ:                      মোশাররফ হোসেন আকন্দ

খুলনা বিভাগ

খুলনা-পাইকগাছা:          আবদুল মজিদ গাজী

যশোর-চৌগাছা:             মাস্টার কামাল আহমেদ

কেশবপুর:                    ওজিহুর রহমান

ঝিনাইদহ-মহেশপুর:       শহিদুল হক বিশ্বাস

কোটচাঁদপুর:                 শরিফুল ইসলাম

মিরপুর:                       আবুল হাশেম চৌধুরী

চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর:       সাজিদুর রহমান

দর্শনা:                        আশকার আলী

সাতক্ষীরা:                    শেখ নুরুল হুদা

কলারোয়া:                   শেখ ইমান আলী

সিলেট বিভাগ

কাটাইঘাট:                   একে এম ওলিউল্লাহ

মৌলভীবাজার-বড়লেখা:   খিজির আহমেদ

কমলগঞ্জ:                     মাশুক আহমেদ।

এর মধ্যে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জেও প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা ছিল দলের। তবে খেলাফত মজলিসের শক্ত প্রার্থীর কারণে সরে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ

কুমিল্লা-চৌদ্দগ্রাম:           ভিপি সাহাবউদ্দিন

নোয়াখালী-কোম্পানিগঞ্জ-বসুরহাট: মাওলানা মোশাররফ হোসেন

চাটখিল:                      মাওলানা সাইফুল্লাহ

সীতাকুন্ড:                   তৌহিদুল হক চৌধুরী

ঢাকা বিভাগ

ফরিদপুর-বোয়ালমারী:     নেয়াজুল হাসান

/এসটিএস/টিএন/