বরাদ্দের আগেই প্রতীকসহ প্রচারণায় নামতে পারবেন দলীয় প্রার্থীরা

পৌরসভা নির্বাচনের বৈধ প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাবেন ১৪ ডিসেম্বর। তবে  এর ৬ দিন আগে ৯ ডিসেম্বর থেকেই দল মনোনীত প্রার্থীরা প্রতীকসহ প্রচারণায় নামতে পারবেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীকসহ প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগের ৬ দিন তারা প্রতীক ছাড়াই প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারবেন।  নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্র জানায়, আচরণবিধি অনুসারে ভোটগ্রহণে ২১ দিনের আগে কোনও প্রার্থীরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এই হিসেবে ৯ ডিসেম্বর থেকেই পৌর নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হচ্ছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার দলীয় ভিত্তিতে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক আগেভাগেই নির্ধারিত হয়ে থাকছে। কারণ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকগুলোই স্ব-স্ব দলের মেয়র প্রার্থীরা বরাদ্দ পাবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের শুরুর প্রথম দিন থেকে প্রতীকসহ প্রচারণায় অংশ নিতে কোনও বাধা থাকার কথা নয়।

দলীয় প্রার্থীরা ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রতীকসহ প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুযোগের বিষয়টি  কমিশনার শাহনেওয়াজ সোমবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। আর এ বিষয়টিকে কোনও ধরনের বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সামান্য ব্যাপার। ভোটার প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে দেখে নির্বাচনে ভোট দেই। পৌরসভা খুব ছোট এলাকা। খুব বেশি ক্ষতি হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ওই সময় প্রতীক না পেলেও নিজ পরিচিতিতে প্রচারণা চালাবেন।

এদিকে, কমিশনের নিজস্ব সিনিয়র কর্মকর্তার অভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিনিয়র কর্মকর্তার সংখ্যা কম। আবার টোটাল অফিসারেরও স্বল্পতা রয়েছে। এছাড়া, ৮৫ জন কর্মকর্তার নামে মামলা চলছে। এ কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনার বলেন, এবারই প্রথম উপজেলা নির্বাচনে ইসির ৬১ জন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোয় ইসির কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া, প্রত্যেকটি পৌরসভায় ইসির কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক নিয়ে নানাধরনের সমালোচনা দেখা দিয়েছে। নারীদের জন্য যেসব প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো ‘অবমাননাকর’ ও  ‘অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। অনেক প্রার্থী ও নারী নেত্রীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। নারীদের জন্য নির্ধারিত এ সব প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা কমিশনও বিবেচনায়  নিয়েছে।

নারী প্রার্থীদের প্রতীকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার শাহনেওয়াজ বলেন, প্রতীক দেওয়া হয় কাউকে চিহ্নিত করার জন্য। কাউকে আঘাত করা বা অসম্মান করার জন্য নয়। তবে এতে যদি নারী প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হন, এগুলো পরবর্তী সময়ে দেখব। সময় স্বল্পতা ও ব্যস্ততার কারণে প্রতীকগুলো নিয়ে আমরা বসতে পারিনি।

উল্লেখ্য, পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের আঙুর, গ্যাসের চুলা, চকলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি ও হারমোনিয়াম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/