এদিকে, কমিশন দাবি করেছে আচরণবিধির বিষয়টিকে সকলের নজরে আনার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে কমিশন সচিবালয় থেকে সরাসরি কাজটি করেছি। এখন থেকে এ কাজটি রিটানিং অফিসারই করবে।
পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আচানুর রহমান রিমন, শফিকুল ইসলাম শিমুল ও এমএ মালেককে শোকজ করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতেই এই তিন এমপিকে শোকজ করা হয় বলে ওই সময় নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান। শোকজের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে এই তিন এমপি’র দুজন স্বশরীরে কমিশনে এসে এবং অন্যজন চিঠি দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন।
এরই মধ্যে সরকারের দুইজন প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে আচরণভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এতে করে কমিশন থেকে তাদের সকলের বিরুদ্ধে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের নামে বুধবার শোকজের খসড়া চিঠিও প্রস্তুত হয় বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে কমিশনের সিদ্ধান্তে ছন্দপতন ঘটে বলে জানা গেছে। বুধবারই দুই মন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন এমপিকে চিঠি পাঠানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়।
জানা গেছে, কমিশন নিজের থেকে শোকজ চিঠি ইস্যুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যেমে আচারণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে শোকজ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আচরণবিধি ঠিকমত পালিত হচ্ছে কি না এটার দেখা দায়িত্ব রিটার্নিং অফিসারদের। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তারাই ব্যবস্থা নেবেন।
তাহলে কেন প্রথমে তিন এমপিকে শোকজ করা হলো জানতে চাইলে সচিব বলেন, আচরণবিধিটি যেন সবাই সঠিকভাবে মেনে চলেন এই বিষয়টি সকলের গোচরে আনার জন্য গণমাধ্যমের রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশনের পক্ষে এটা নিজেরা করেছি। তবে, আমরা রিটার্নিং অফিসারদের সজাগ করে দিচ্ছি, যাতে কোনও পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তারা যেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। কমিশন সচিবালয় থেকে কোনও মন্ত্রীকে শোকজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।
/এফএ/