বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ মার্চ) কুয়ালালামপুরের জেডব্লিউ মেরিয়ট হোটেলের বল রুমে বাংলাদেশ হাই কমিশন এ উপলক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে কেক কাটা এবং বাংলাদেশের শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—মালয়েশিয়ার সিনিয়র মিনিস্টার (ওয়ার্কস) দাতুক সেরী ফাদিল্লাহ ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

দাতুক সেরী ফাদিল্লাহ ইউসুফ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, উভয় দেশের চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। উভয় দেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে পারে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন-২০৪১ রূপকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে শামিল হতে চলেছে। বিদেশি বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার অবস্থান নবম। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হালকা যন্ত্রপাতি ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য মালয়েশিয়ায় রফতানি করছে। বাংলাদেশ ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩০৬.৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য মালয়েশিয়ায় রফতানি করেছে, একই সময়ে ১,৫৭৬.৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একশ’টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, অনেকগুলোর কাজ প্রায় শেষের পথে। এখানে মালয়েশিয়া ফার্নিচার, কৃষিপণ্য প্রসেসিংসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবে। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।

দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ২৮ হাজারেরও অধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের মাধ্যমে বিস্তৃত হচ্ছে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন। এছাড়া উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রতিবছর দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণে আসেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেক কোম্পানি কর্মী হিসেবে বাংলাদেশিদের পছন্দ করে। কারণ বাংলাদেশি কর্মীরা কর্মঠ। তারা কাজ জানে। গত ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যকার শ্রম রফতানির এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ করছে দুই দেশ।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার তার স্বাগত বক্তব্যে বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেন।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মালয়েশিয়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতা দিবস ও ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, আইজিপি বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও হাই কমিশনের কমকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।