ইরানের নারী আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে সংহতি সমাবেশ

মাসা আমিনীর মৃত্যুর ঘটনায় ইরানে চলছে নারী আন্দোলন। সেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে সংহতি সমাবেশের আয়োজন করেছে নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ। ‌‘শরীর নারীর, সিদ্ধান্তও নারীর’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে শনিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা ইরানে নারীদের ওপর নির্যাতন শুধু হিজাবের কারণে নয় বরং নারীকে ছোট করে দেখার প্রবণতা, ধর্মের নামে নারীকে পণ্য হিসেবে সাব্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশেও নারীদের ওপর ধর্মের নামে বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর ধর্মান্ধ মনোভাবকে সমূলে উৎপাটনের দাবি জানান।

সমাবেশে নারী নেত্রী ফওজিয়া খন্দকার বলেন, ‘নারীদের সবখানে পিছিয়ে রাখা হয়। যখনই নারীরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বব্যাপী এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে মুহূর্তে ইরানে ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের ওপর অনবরত নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমরা এটার প্রতিবাদ জানাই। ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা নারীদের সঙ্গে পণ্যের মতো আচরণ করছে। ইরানে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এতে আমাদের সবারই জোরালোভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা দাসী হতে আসিনি, দাসী হতে জন্মাইনি, আমরা অন্যের কথামতো চলতে চাই না। আমরা আমাদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই।’

সভাপতির বক্তব্যে নীপিড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগের অন্যতম সংগঠক আকরামুল হক বলেন, ‘ইরানে আজ ধর্মের নামে মেয়েদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এমনকি তাদের হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই মননেরই একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে মেয়েদের ওপর বিরাট বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী এই ঘটনাগুলো চোখে পড়ছে। কিছুদিন আগে এক মেয়ে ওড়না না পরার কারণে বাসে তাকে অপদস্ত করেছে মানুষ। মেয়েটি সেখানে শক্তভাবে মোকাবিলা করেছে। আমাদের এই বিষয়গুলোকে এভাবেই শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।’

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মণীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘ইরানে নারীরা যে আন্দোলন করছে, এই আন্দোলন নারীর স্বাধীনতায় পথ দেখাবে। যে মৌলবাদী শক্তি নারীদের স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চায়, তাদের প্রতি একটা বার্তা দিচ্ছে যে কূপমণ্ডূক চিন্তা দিয়ে নারীদের ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখা যাবে না। এ আন্দোলনের মাধ্যমে নারী মুক্তির আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরি গায়েন বলেন, ‘পোশাক নারীর স্বাধীনতা। কেউ হিজাব পরতে চাইলে হিজাব পরবে, কেউ জিনস পরতে চাইলে সেটাই পরবে। কাউকে বাধ্য করা যাবে না। এটাই হলো আমাদের কথা। রাষ্ট্রে ডানপন্থী সরকার এলে নারীদের ওপর অত্যাচার অনেকাংশে বেড়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের মেয়েরা কষ্ট ও সংগ্রাম করে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের এই প্রক্রিয়াকে টিকিয়ে রাখতে হলে ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনকে জাগিয়ে রাখতে হবে। এখানটায় এসে ইরানের নারীদের আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের আন্দোলন একাকার হয়ে গেছে।’

যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য দেন আন্দোলনটির সংগঠক অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, প্রকাশক রবিন আহসান, নারী নেত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির লুনা নুর, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, লেখক অদিতি ফাল্গুনী, মানবাধিকার কর্মী ও নারী নেত্রী মুশফিকা লাইজু প্রমুখ।