পিরিয়ডের দিনগুলোতে নারীর কি রোজা রাখা আবশ্যক

ইসলামে সুস্থ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই পবিত্র রমজানে রোজা রাখা ফরজ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩) একটু পরই মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

কিন্তু ইসলাম যেহেতু স্বভাব ধর্ম, তাই এই আবশ্যকতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোজা না রাখার সুযোগ দিয়েছে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে রোজা রাখা হারাম করেছে। রোজা রাখা হারাম হলো, যখন নারীদের পিরিয়ড, তথা মাসিক শুরু হয়।

পিরিয়ডের সময় রোজা রাখা যাবে না। কেউ রোজা রাখলেও তা আদায় হবে না। পরববর্তী সময়ে তা কাজা করে নিতে হবে। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর রাসুলের (সা.) জীবদ্দশায় আমাদের পিরিয়ড হলে আমাদের (রোজা ভেঙে পরবর্তী সময়ে) রোজার কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা আদায়ের আদেশ দেওয়া হতো না। (সহিহ বুখারি)

পাশাপাশি রোজা রাখার পর কোনও নারীর পিরিয়ড শুরু হলে তিনি রোজা ভেঙে ফেলবেন এবং তখন থেকেই খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এমন নারীর জন্য খাওয়া-দাওয়ায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে অন্যদের যেন কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং লোকজনের সামনে না খেয়ে নির্জনে খাওয়া-দাওয়া করতে হবে। (ফতোয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত, ৫/৪৭৪)

অবশ্য রমজানের দিনের বেলায় যদি কোনও নারীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি পবিত্র হয়ে যান, তাহলে ওই দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরে ছুটে যাওয়া রোজার সঙ্গে শেষের দিনের রোজারও কাজা করতে হবে।

একটা বিষয় জরুরি, রমজান মাসে কোনও নারী ওষুধ খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রাখলে ওই দিনগুলোতেও তাকে রোজা রাখতে হবে। তার এ রোজাগুলো ত্রুটিযুক্ত হবে না; বরং পূর্ণ সহিহ বলেই গণ্য হবে।

আর পিরিয়ড যেহেতু নারীদের স্বভাবজাত বিষয়। এ অবস্থায় রোজা না রাখার বিধান রয়েছে এবং এর পরিবর্তে অন্য সময় রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং রমজানে পিরিয়ড বন্ধকারী ওষুধ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

কেননা, রমজানে পিরিয়ডের কারণে রোজা না রাখলেও শরিয়তের কোনও বিধান লঙ্ঘন হয় না। উপরন্তু ওষুধ ব্যবহারে কোনও কোনও ক্ষেত্রে শারীরিক ক্ষতির আশংকা থাকে। তাই এ থেকে বিরত থাকাই উচিত। (জামিউ আহ্কামিন নিসা ১/১৯৮ ও ফাতাওয়া রহিমিয়া ৮/১৩৬)

লেখিকা: আলেমা