রমজান মাসের রোজা প্রত্যেক বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো। নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে, কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩–১৮৪)
মুসাফির, গর্ভবতী নারী এবং এমন রোগী— যে রোজা রাখতে পারে না অথবা রোজা রাখলে রোগ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তির জন্য বিনা ওজরে রোজা ছেড়ে দেওয়ার কোনও অনুমতি নেই। যদি কর্মরত কোনও কর্মচারীর ওপর এ বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকে এবং কাজের ধরনও এমন না হয় যে, তা রোজা বা নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কর্মচারীর রোজা ও নামাজ ত্যাগ করার দায় তার নিজের ওপরই বর্তাবে।
তবে কর্মচারীর যিনি কর্তা, তার দায়িত্ব হলো— তাদেরকে রোজা ও নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার উপদেশ দেওয়া এবং সম্ভব হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মপরায়ণ কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
এজন্য কর্তা বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের জন্য সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করা উচিত, প্রয়োজনে রাতের খাবারসহ।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ২)
আর যদি তাদের কাজ অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের ও কষ্টসাধ্য হয় এবং এটা তাদের রোজা না রাখার কারণ হয়, তাহলে ‘তাআওয়ানু আলাল বির’ (নেক কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা)— এই নীতির আলোকে কর্মচারীদের জন্য দিনেরবেলা কিছু সুবিধা ও ছাড় দেওয়া যেতে পারে। এতে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর কাছে কর্তা বা প্রতিষ্ঠান সওয়াবের অধিকারী হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি (রমজান মাসে) তার কর্মচারীর কাজের মধ্যে কিছুটা হালকা করে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।’ (মিশকাত)
আল্লামা আলাউদ্দিন হাসকাফি লিখেছেন, ‘রোজাদারের জন্য এমন কোনও কাজ করা জায়েজ নয়, যা তাকে রোজা রাখার ক্ষেত্রে দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভব করাবে। অতএব, একজন রুটি বানানো ব্যক্তি অর্ধেক দিন রুটি বানিয়ে বাকিটা সময় বিশ্রাম নিক।’ (রদুল মুহতার : ৩/৩৫৭)
লেখক: আলেমা