নখ কাটা নিয়ে ইসলাম কী বলে?

ইসলামে নখ কাটা পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। তবে নখ কাটার জন্য ইসলাম নির্দিষ্ট কোনও দিন, সময় বা বাধ্যতামূলক পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেয়নি। মানুষ যখন ইচ্ছা, যে দিন ইচ্ছা এবং যে আঙুল থেকে ইচ্ছা নখ কাটা শুরু করতে পারে।

তবে আলেমদের একটি অংশের মতে, ডান হাতের নখ আগে এবং পরে বাম হাতের নখ কাটা উত্তম। অনেক ফকিহ (ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ) ডান হাতের তর্জনি (শাহাদাত আঙুল) থেকে শুরু করার কথা উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ পুরো ডান হাতের নখ আগে এবং পরে পুরো বাম হাতের নখ কাটাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে এসব পদ্ধতি কেবল উত্তম বা অগ্রগণ্য; এগুলোকে সুন্নত বলা যায় না।

হাদিস ও সুন্নাহ পর্যালোচনা করে ইমাম নববী, হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি, ইমাম সুয়ূতী ও আল্লামা ইবন আবেদীন শামী (রহ.) এর মতো বহু মুহাক্কিক আলেম উল্লেখ করেছেন যে, নখ কাটার কোনও নির্দিষ্ট সুন্নত পদ্ধতি সহিহভাবে প্রমাণিত নয়। তাই যে কোনও বৈধ পদ্ধতিতেই নখ কাটা জায়েজ।

কিছু ফকিহ জুমার দিন, বিশেষ করে জুমার নামাজের পর নখ কাটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তবে এটিও বাধ্যতামূলক নয়।

অন্যদিকে নখ কাটার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, এটি দীর্ঘদিন অবহেলা করা যাবে না। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাদের জন্য গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের লোম অপসারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০ রাত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮)

অতএব, নখ ও অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার এসব কাজ ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব করা শরিয়তসম্মত নয়। একজন মুসলমানের উচিত নিয়মিত নখ কেটে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুন্নতের প্রতি যত্নবান হওয়া।

তথ্যসূত্র: দুররে মুখতার: ৯/৫৮০-৫৮১, আল-মাজমুউ শরহুল মুহাজ্জাব: ১/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত) ও অন্যান্য