ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি ও মিথ্যা সংবাদে লাইক-কমেন্ট-শেয়ারে কবিরা গুনাহ

ইসলাম মুসলমানদের মিথ্যা বলা ও তার প্রচার থেকে সম্পর্ণরূপে নিষেধ করেছে এবং মিথ্যাবাদীর ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবার্তাও দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মিথ্যা রচনা করে তারাই, যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না; আর তারাই হলো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১০৫) অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মিথ্যাবাদী ও অকৃতজ্ঞকে হিদায়েত দেন না।’ (সুরা যুমার, আয়াত: ৩)

ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করা, মিথ্যা বলা বা মিথ্যা রচনার মতোই। তাই উপরোক্ত সতর্কবার্তা ও হুঁশিয়ারি ভুয়া ফটোকার্ড প্রস্তুতকারীর জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। অনুরূপভাবে মিথ্যা সংবাদে লাইক-কমেন্ট-শেয়ার দেওয়া মিথ্যা ও ভুয়া খবর প্রচারে সহযোগিতা করার নামান্তর; যা কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। মিথ্যা ও মন্দ কাজে সহযোগিতার প্রতি হুঁশিয়ারিয়ে দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ আজাব প্রদানে কঠোর।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে আমাদের কাছে যে কোনও খবর খুব দ্রুত পৌঁছে যায়। আর সেগুলোর কোনোটি যদি আমাদের পছন্দ হয়, তাহলে আমরা তাতে নানা ধরনের রিঅ্যাক্ট, (লাইক ইত্যাদি) কমেন্ট করি কিংবা কখনও শেয়ারও দিই। কিন্তু আমাদের এ ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া জরুনি যে, ওই খবরটা জনকল্যাণমূলক কিনা বা সত্য কিনা! কারণ, যাচাইবাছাই ছাড়া লাইক-কমেন্ট-শেয়ারেও কবিরা গুনাহ হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)

পবিত্র কোরআনে যে কোনও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্কবাণী দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘হে ঈমানদারগণ, যদি কোনও ফাসিক তোমাদের কাছে কোনও সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনও কওমকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)

একইসঙ্গে মিথ্যাবাদীকে আল্লাহর রাসুল (সা.) মুনাফিক সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি। কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি) এখানে মিথ্যাকে মুনাফিকির প্রধান লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; যা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর।

যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচারে মিথ্যাবাদী কিংবা মিথ্যায় সহযোগী হওয়ার শঙ্কা থাকে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনও ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম) এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ফটোকার্ড ও সংবাদের ক্ষেত্রেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং বুঝেশুনে লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করা উচিত, যাতে আমরা অজ্ঞাতসারেও মিথ্যাবাদী কিংবা মিথ্যা প্রচারের সহযোগী হয়ে না যাই।

কারণ, মিথ্যাবাদীদের জন্য আখিরাতে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ মিথ্যাবাদীদের প্রতি অভিশাপ দিয়ে বলেছেন, ‘এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত, যারা মিথ্যাবাদী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬১) এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬০৯৪)

লেখক: মাদ্রাসাশিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী