‘নিকাহে মুতআ’, যা ‘মুতা বিয়ে’ নামে প্রসিদ্ধ। আর আরবি শব্দ যুগলের প্রথমটি তথা ‘নিকাহ’ মানে বিবাহ, আর ‘মুতআ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো, উপভোগ, সম্ভোগ। যৌথভাবে শব্দযুগলের অর্থ হয়, ‘উপভোগের বিবাহ’।
এই বিবাহের পারিভাষিক অর্থও শাব্দিক অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে। পরিভাষায় ‘নিকাহে মুতআ’ বলা হয়, এমন এক ধরনের বিবাহচুক্তিকে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (যেমন: কয়েক দিন, মাস বা বছর) একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে অস্থায়ী বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে বিবাহটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়; তালাকের প্রয়োজন হয় না। এই বিবাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরও ধার্য থাকে। (ইমাম ইবনে বায রহমাতুল্লাহি আলাইহি)
মুতা বিয়ে কি জায়েজ?
ইসলামের প্রাথমিক যুগে হালাল ও হারামের অনেক বিধান ধীরে ধীরে নাজিল হয়েছে। মদ ও সুদ হারাম হওয়ার বিধান নবুওয়তের প্রায় ১৫-২০ বছর পর নাজিল হয়। একইভাবে মুতা বিয়েও হারাম করা হয়েছে সর্বপ্রথম কোরআন নাজিলের বেশ কয়েক বছর পরে। তার আগে মুসলমানদের মধ্যেও কেউ কেউ এই বিবাহ করেছেন, আর এই সময়টিকে নিয়েই বলা হয় যে, ইসলামের শুরুর যুগে মুতা বিয়ে জায়েজ ছিল।
অতঃপর রাসুল (সা.) ঘোষণা দেন, ‘হে লোকসকল! আমি তোমাদের নারীদের সঙ্গে মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম। আর (এখন) আল্লাহ তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং যার কাছে মুতা করা নারীদের মধ্য থেকে কোনও নারী আছে, সে যেন তাকে ছেড়ে দেয় এবং তাদের যে সম্পদ (মোহর/অর্থ) দিয়েছে, তা থেকে যেন কোনোকিছুই ফেরত না নেয়।’ রাসুলের এই ঘোষণা পর থেকেই ইসলাম ধর্মে মুতা বিয়ের যুগ সমাপ্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস: খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১৪৭, আল-ইতিবার, পৃষ্ঠা : ১৮৭, দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া নাম্বার : ২২০৮২ ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া আল্লামা ইউসুফ বানুরি টাউন করাচির ফতো নাম্বার : ১৪৪১০৫২০০৫৪০।