সাহাবি ছাড়া অন্য কারও নামের সঙ্গে কি ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ বলা যাবে?

‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ (رضي الله عنه) মূলত একটি দোয়াসূচক বাক্য, যার অর্থ, ‘আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।’ প্রচলিত ইসলামি পরিভাষায় এটি সাহাবায়ে কেরামের (রা.) জন্যই বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে অর্থগত দিক থেকে এটি নেককার মুমিনদের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সম্পর্কে বলেছেন, رَضِیَ اللّٰهُ عَنۡهُمۡ وَ رَضُوۡا عَنۡهُ। অর্থ- ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।’ (সুরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৮)

একইভাবে সুরা তাওবার ১০০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, وَٱلسَّـٰبِقُونَ ٱلْأَوَّلُونَ مِنَ ٱلْمُهَـٰجِرِينَ وَٱلْأَنصَارِ وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحْسَـٰنٍ رَّضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ। অর্থ- ‘মুহাজির ও আনসারদের (সাহাবিরা) মধ্যে যারা প্রথম সারির অগ্রণী আর যারা তাদেরকে যাবতীয় সৎকর্মে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।’ এই আয়াতে সাহাবি এবং তাদের অনুসারীদের (পরবর্তী উম্মত) ক্ষেত্রেও ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ ব্যবহার করেছেন।

তবে উলামায়ে কেরামের প্রচলিত আমল হলো, সাহাবিদের নামের সঙ্গে ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ এবং তাবেঈ, ইমাম, মুহাদ্দিস ও অন্যান্য বুযুর্গদের নামের সঙ্গে ‘রহিমাহুল্লাহ’ কিংবা ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ বলা। 

যদিও শরিয়তের দৃষ্টিতে তাবেঈ বা কোনও নেককার ব্যক্তির জন্য ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; তারপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে সাহাবি ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে ‘রহিমাহুল্লাহ’ বলাই উত্তম ও অধিক প্রচলিত। কারণ, অন্যদের ক্ষেত্রে ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ বলা হলে সাধারণ মানুষ তাদেরও সাহাবি মনে করতে পারেন। 

-জামিয়াতুল উলূমু আল ইসলামিয়া আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরি টাউন করাচি ও দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অবলম্বনে