বিএনপি নেতা বিপ্লবসহ ৪ আসামির জামিন না মঞ্জুর

ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ডরংপুরে জাপানের নাগরিক ওসি কুনিও হত্যামামলার ৪ আসামির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিএনপি রংপুর মহানগর নেতা বিপ্লবসহ ৩ বিএনপি নেতাকর্মী এবং ওসি কুনিও’র ব্যবসায়িক পার্টনার হুমায়ুন কবীর হিরার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ জামিন নামঞ্জুরের এ আদেশ দেন।
এর আগে, বিএনপি নেতা বিপ্লবসহ ৪ বিএনপি নেতাকর্মী ও হুমায়ুন কবীর হিরার জামিনের আবেদন কয়েক দফা রংপুরের জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নামঞ্জুর করেন। এরপর আসামি রংপুর মহানগর বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী খান বিপ্লব , যুবদল নেতা ব্লাক রুবেল, মেরিল সুমন ও  হুমায়ুন কবীর হিরার  পক্ষে জামিন বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। বিচারক জামিনের শুনানিতে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলামকে আদালতে তলব করেন।
সোমবার  দুপুর ১২ টায় আসামি পক্ষে জামিনের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজিবী আব্দুর রশীদ চৌধুরী, আফতাব হোসেনসহ বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীরা। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের শুনানিতে বলেন, এ মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তাদের জাপানি নাগরিক হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, প্রথমে বিএনপি নেতাদের এই ঘটনার মূল হোতা বলা হলেও কিছুদিন পর জেএমবির জঙ্গি মাসুদ রানা গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।  এতে  ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর এছাহাক নামে আর এক জঙ্গির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। এতে পরিষ্কার হয়ে যায়—জেএমবির জঙ্গিরাই জাপানি নাগরিককে হত্যা করেছেন। ফলে প্রমাণিত হয়, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য সংবলিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের কাটিং আদালতে উপস্থাপন করে তারা দাবি করেন, ডিআইজি নিজেই বলেছেন, জেএমবির জঙ্গিরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

এদিকে,  পিপি আব্দুল মালেক দীর্ঘ শুনানিতে বলেন, এই মামলায় হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ওসি কুনিও খুন হওয়ার আগে জানতেন তার ভাই জাতীয়তাবাদী মৎসজীবী দলের রংপুর জেলা আহ্বায়ক কামাল।  হিরাকে কামাল বলেছিলেন, শিবিরের লোকজন ওসি কুনিওকে হত্যা করতে পারে। সে কারণে তিনি  যেন তার সঙ্গে না যান। এ জন্যই ঘটনার দিন হিরা জাপানের নাগরিকের  সঙ্গে না গিয়ে একটি রিকশায় যেতে বলেন। এতেই প্রমাণিত হয় হিরা বিষয়টি জানতেন। অন্যদিকে, তার ভাই কামাল বিএনপি নেতা। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও শিবির জড়িত ছিল, তা বোঝা যায়।

এদিকে, জেএমবির জঙ্গি রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বিপ্লব নামে এক জনের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, এর আগে ছাত্র শিবিরের রাজনীতি করতেন। ফলে বিএনপি-জামায়াত-শিবির-জেএমবি একই সূত্রে গাঁথা। এদিকে, রানা বলেছেন হাই কমান্ডের নির্দেশেই ওসি কুনিওকে হত্যা করেছেন তিনি। ফলে এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বা গড ফাদার এবং পরিকল্পনাকারী কারা, এ সব চিহ্নিত করতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, পুলিশ এমনিতেই যেকোনও মামলা তদন্ত করতে ৪ মাস সময় পায়। এই মামলা এখনও ৪ মাস হয়নি। ফলে আসামিরা কোনও অবস্থাতেই জামিন পেতে পারেন না। শুনানির একদিন পর মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে আসামিদের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করার আদেশ দেন বিচারক।

/এমএনএইচ/