রাজধানীর মিরপুরে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে দলটির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- আল আমিন, ইমন, কালাম, প্রবাল, ইব্রাহিম, সুজন, রাব্বী, হাবীব ও জাকির। এদের মধ্যে জাকিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরাও ভর্তির প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। তারা সবাই ছড়রা গুলিতে আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের নাকি নিজেদের গুলিতে তারা আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত নয়।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
আরও পড়ুন:
জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকার প্রতিবাদে রবিবার সকাল ছয়টা থেকে কাল সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত সারাদেশে হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। হরতালের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মহানগরের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় এমপি আসলামুল হকের নেতৃত্বে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। তারা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের নেতৃত্বে আরেকটি হরতালবিরোধী মিছিল রাস্তা অতিক্রম করছিল। তখন দুই পক্ষ সামনাসামনি হলে সংঘর্ষ বাধে, ধাওয়া পাল্টা -ধাওয়া ও গুলি বিনিময় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
আসলামুল হকের সমর্থক ও শাহ আলী থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, তুহিনের নেতৃত্বে মিছিল থেকে প্রথম হামলা করা হয়।
তবে সাবিনা আক্তার তুহিন সাংবাদিকদের জানান, আসলামের সমর্থকরাই প্রথমে তাদের মিছিলে হামলা করেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালে ১৫ জনকে আনা হলে সকলকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরে গেছেন। অনেকে এখনও হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তবে আহতদের মধ্যে জাকির হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
/জেইউ/এসএনএইচ/ এপিএইচ/