সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এছাড়া দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের দু’টি করে বিভাগের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী কমিটিতে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে সিলেট বিভাগ, সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা মো. মেজবাউদ্দিন সিরাজ নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগ, খুলনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা বি. এম মোজাম্মেল হক এমপিকে রংপুর বিভাগ, বরিশাল বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপিকে আবারও বরিশাল বিভাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নতুন যুক্ত হওয়া একেএম এনামুল হক শামীমকে চট্টগ্রাম বিভাগ, আগের কমিটিতে রংপুর বিভাগের দায়িত্বে থাকা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিকে রাজশাহী বিভাগ, আগের কমিটির রাজশাহী বিভাগের আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিকে খুলনা বিভাগ এবং নতুন অন্য সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীকে (নওফেল) ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে দায়িত্ববণ্টনে অন্য কারও আপত্তি না থাকলেও বাহাউদ্দিন নাছিম কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দায়িত্ব পালনে জোরালো আপত্তি না জানালেও ‘নেতাদের ছড়াছড়ি‘ বরিশাল বিভাগে দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ, ডা. দীপু মনি এমপিকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং আব্দুর রহমান এমপিকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিভাগীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য একজন করে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ধানমণ্ডির সাত মসজিদ রোডে দলের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলাদা একটি অফিস নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সেখানে গিয়ে নিয়মিত বসার নির্দেশ দেন। ওই অফিসে সাংগঠনিক সম্পাদকদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ওই অফিসে বসে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন মনিটরিং করতে নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা।
বৈঠকে আলোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন যুক্তরাস্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়কে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি আশঙ্কার বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে একটি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকানরা সবসময় বাংলাদেশবিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধীতা করেছিল। আর তখন ওই রিপাবলিকানই দেশটির ক্ষমতায় ছিল।’ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের বক্তব্য খণ্ডন করে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ আর ২০১৬ এক নয়। এখন আমাদের অবস্থার অকে পরিবর্তন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন যারাই ক্ষমতায় আসুক না কোনও আমাদের ওপর তার প্রভাব পড়বে না।’ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা বা দলের অন্য কোনও নেতা বিতর্কে অংশ নেননি।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/