বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ণ, গুম, খুন-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার হয়রানির পাশাপাশি আবারও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিনে বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এজন্য নিখোঁজ লোকজনের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে এক দুই বছর পরে গ্রেফতারের নাটক সাজালে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এসব নাটকের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টায় সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হাকিমকে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক থানায় যোগাযোগ করা হলে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নানা নাটকীয়তা ও সাসপেন্স শেষে তিন দিন পর তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।’
এছাড়াও গত দু’দিন আগে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার আবুল কাশেম । তিন দিন পরও তার কোনও খোঁজ মেলেনি। তার পরিবার থানায় জিডি করে পুলিশের সহায়তা চাইলেও পুলিশ তার কোনও সন্ধান দিতে পারছে না। সম্প্রতি কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছের ঘের থেকে একটি প্রাডো গাড়ী উদ্ধারে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার কাপাসিয়া থানায় হাজির হয়ে গাড়ীর মালিকের স্ত্রী সালেহা বেগম দাবি করেন তার স্বামী হেফজুর রহমানকে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে গুলশান থেকে তুলে নিয়ে যায়। গাড়ী পাওয়া গেলেও নিখোঁজ ব্যক্তির এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবীর রিজভী।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর গুম-খুনের কর্মসূচি চালু করে, যা এখনও বন্ধ হয়নি। যার শিকার হয়ে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হীরু, হুমায়ুন কবির পারভেজ, চৌধুরী আলম, জাকির, সুমন, মুন্নাসহ বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। আওয়ামী লীগ এমন রাষ্ট্র ও সমাজ কায়েম করছে যেখানে ‘এক ব্যক্তি একটি দল’-এর বিরুদ্ধে আকার ইঙ্গিতে সমালোচনা করলেও তাকে অদৃশ্য হয়ে যেতে হবে।’
এ সময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরেন।
/এসটিএস/এসএনএইচ/