রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে কক্সবাজারের উদ্দেশে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা দেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কোনও রকম ঝামেলা ছাড়াই ঢাকা ও কুমিল্লা জেলা পেরিয়ে বিকাল ৫ টার দিকে তার গাড়িবহর ফেনীর ফতেপুর পৌঁছায়। এর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ফেনী শহরের ফতেপুর রেলক্রসিং অতিক্রম করার পর পরই খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়। এতে আহত হন দুই সাংবাদিক। এসময় বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিককে বহনকারী একটি গাড়িসহ বৈশাখী টিভি ও ডিবিসি টিভির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়িত। একই দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী নেতা জানে আলম ভূঞা এবং জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হায়দার জর্জের অনুসারীরা এ হামলা চালান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান জানে আলম ভূঞা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। আমরা শত্রুপক্ষ অপ্রচার চালাচ্ছে।’
আর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হায়দার জর্জ বলেন, ‘হামলার কথা আমি শুনেছি। কিন্তু এর সঙ্গে আমি বা আমার কোনও অনুসারী জড়িত নয়। এটা স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে বলে আমি শুনেছি।’
বৈশাখী টিভির সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোরশেদ বিজুর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ফেনী শহরে ঢোকার আগে মহীপালের ফতেহপুরে দুষ্কৃতকারীরা ঢিল ছুড়ে তাদের গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে। ভাঙা কাচ লেগে তার হাত কেটে গেছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শফিক আহমেদও আহত হন।
শনিবার ৫টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়া ফেনী সার্কিট হাউজে পৌঁছান। এখানে তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। এরপর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।
অন্যদিকে, বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ফেনী জেলার লালপুল এলাকায় জাফর আহমদ পাটোয়ারীর মালিকানাধীন সেভেন স্টার হোটেলে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ওই হোটেলে গিয়েছিলেন হামলার শিকার সাংবাদিকরা। এসময় সাংবাদিকদের বহনকারী দু’টি গাড়ি কাচ ভেঙে ফেলে হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান বলেন, ‘জেলার লালপুলে বিএনপি নেত্রীর গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য আয়োজন করা খাবার নষ্ট করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রিন্টু ও জেলা যুবলীগের সদস্য ডালিমের অনুসারীরা এ হামলা করেন।
এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সদস্য ডালিম বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। হামলার খবর শুনে সেখানে যাই।’ আর সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রিন্টু বলেন, ‘এ হামলার সঙ্গে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। আপনি ভুল জানেন।’
নাম গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্য এক নেতা বলেন, ‘সরাসরি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলায় অংশ নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেনীর এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।’
হামলার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে। এসময় বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার সালমান তারেক শাকিলসহ আরও কয়েকটি মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিককে বহনকারী একটি গাড়ি খাবার গ্রহণের জন্য বারইয়ারহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় দাঁড়ানো মাত্র কয়েকজন তরুণ এসে কোনও কথা না বলেই গাড়িটির সামনের ও পাশের কাচ ভেঙে ফেলে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও তাদের রেহাই দেওয়া হয়নি। খাবার খেতে না দিয়েই তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।