হরতালে পুলিশের হামলা: শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ ডেকেছে বামজোট

বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ৬-২টা হরতালের সময় পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছে বামজোট। বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক।

সাইফুল হক দাবি করেন, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ের গেট ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ ও নেতাকর্মীদের আটক করার প্রতিবাদে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ পালিত হবে। রাজধানীতে বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

সাইফুল হক তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার আধাবেলা হরতালে ঢাকার মোহাম্মদপুর, পল্টন, যশোর, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশ হরতালকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। চট্টগ্রামেও পুলিশের বাধায় কোনও পিকেটিং করতে পারেনি বামদলগুলোর নেতাকর্মীরা।

সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ে গঠিত বামজোটের নেতারা কর্মসূচি ঘোষণার আগে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, শেখ হাসিনা উন্নয়নের ভেল্কিবাজি দেখাচ্ছেন। পৃথিবী বিস্ময় নিয়ে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, এমন লুটেরা দেশ দেখে, হরিলুটের দেশ দেখে।

সাকি বলেন, বৃহস্পতিবারের হরতালে সারাদেশের মানুষ, সব রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবীরা সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা মনে করেন, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সরকার আরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সাকি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এভাবে হরিলুট করে দিন যাবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চলমান এই ন্যায্য আন্দোলন আরও শক্তি নিয়ে আগামী দিনে পালন করা হবে বলেও জানান জোনায়েদ সাকি।

সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, সরকার সকালে বাস নামিয়ে হরতাল নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ হরতালে সমর্থন জানিয়েছে। বাস থেকে হাততালি দিয়ে হরতালকারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদ্যুতের দাম না কমালে আমরা একটার পর একটা কর্মসূচিতে যাবো।

সমাবেশ সমাপ্ত করার আগে সাইফুল হক বলেন, সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে আগামী দিনে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে।

প্রেসক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে অবস্থান নেয় সিপিবি-বাসদ ও বামমোর্চার নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মহানগরের নেতারা বক্তব্য চালিয়ে যান। সিপিবি নেতা আবদুল্লাহ কাফি রতনের সঞ্চালনায় সমাবেশে হরতাল আহ্বানকারী দলগুলোর নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজধানীর শাহবাগে, মোহাম্মদপুর, পল্টনে পিকেটিং করে হরতাল সমর্থকরা। এসময় তারা বিভিন্ন ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করেন। শাহবাগে হরতালকারীদের রাজপথ থেকে সরাতে পুলিশ বিশেষ শব্দ ব্যবহার করে। এসময় নেতাকর্মীদের কানে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।