সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে: মওদুদ

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা

আওয়ামী লীগের গত দশ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের গত দশ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। একদিন তাদের বিদায় নিতে হবে।’  

শুক্রবার (২ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারই শেষ সরকার নয়। এ সরকারের আমলে মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে তাদের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ী, এমনকি জেলা পর্যায়ের নেতারা কত টাকা দুর্নীতি করেছেন তার হিসাব হবে। সবার দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সবকিছুর জবাব দিতে হবে।’  

মওদুদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে এত বড় চুরি হয়ে গেলো কিন্তু কখনও কাউকে গ্রেফতার বা বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। কারো ঘরে চুরি হলেও তো বাড়ির দারোয়ানকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু এ ঘটনায় কিছুই হয়নি। আর বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে কারাগারে ভরা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে গেলো অথচ কারা জড়িত সেটা কেউ জানলো না।’  

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ সরকারের আমলে গত দশ বছরে যে দুর্নীতি হয়েছে তার কোনও হিসেব নেই। বিশ্বব্যাংক এখন আর কোনও অর্থায়ন করে না। কারণ তারা অর্থায়ন করলে সব কিছু মনিটরিং করে। আর সেজন্যই সরকার বলে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। আপনারা নিজস্ব অর্থায়নের কথা বলছেন? এর মানে বোঝেন? নিজস্ব অর্থায়ন মানে এর কোনও মনিটরিং বা জবাবদিহিতা নেই। তার মানে হলো- যত বড় বড় প্রকল্প তত বড় বড় দুর্নীতি, ঘুষ, কমিশন। 

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘সরকার আজ উন্নয়নের কৃতিত্ব দাবি করে। কিন্তু দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তার কৃতিত্ব সরকারের নয়, দেশের মানুষের। দেশের অর্থনীতি মূলত যে তিনটি সেক্টরের ওপর বেশি নির্ভর করে সেগুলো হলো- কৃষি, রেমিট্যান্স, ও পোশাক শিল্প। এ তিনটি খাত প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ করেছে বিএনপি। এগুলোতে সরকারের কোনও অবদান নেই।’  

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে মওদুদ বলেন, ‘যতই ষড়যন্ত্র করেন না কেন, খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে। তাকে আটকে রাখা যাবে না। আর যেদিন তিনি মুক্তি পাবেন, সেদিন দেখবেন তার জনপ্রিয়তা তিন গুণ বেড়ে গেছে। দেশের মানুষ তার সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসবে। আপনারা দেশের মানুষকে বোকা মনে করেন। কিন্তু তারা বোকা না, সব জানে ও বোঝে। যেদিন তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে, সেদিন ব্যালটের মাধ্যমে তারা কঠিন জবাব দেবে।’ 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি দলের প্রচারণার বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু পত্রিকায় দেখলাম তারা জবাবে বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর তারা (ইসি) দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু আমাদের দেশে তফসিল ঘোষণা হয় নির্বাচনের দেড় মাসে আগে। এ অল্প সময়ে কি প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো যায়?’ 

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল হায়দার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ (ভাসানী)-এর গোলাম মোস্তফা ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ।