শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। বেলা ৩টায় সভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামে লালদীঘির ময়দানে বিএনপি সমাবেশ করতে চেয়েছিল, সেখানে সবাই সমাবেশে করছে। কিন্তু বিএনপিকে বলা হলো লালদীঘির ময়দান দেওয়া যাবে না। শেষ মুহূর্তে যেদিন মিটিং হবে, সেদিন সকালবেলা বলা হলো করতে পারেন, তবে পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে। তারপরও সরকার মানুষের স্রোত বন্ধ করতে পারেনি। সেদিন চট্টগ্রামের রাস্তায় লাখো মানুষের স্রোত হয়েছিল। খুলনায় মাত্র এক ঘণ্টা আগে মিটিং করার অনুমতি দিয়েছে। সেখানেও এক ঘণ্টার মধ্যে তিন-চারটা রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি মানুষ এখন শুধু অপেক্ষা করে আছে; কবে তারা একটা সুযোগ পাবে। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এ সরকারকে চিরতরে উৎখাত করে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই ফেটে পড়ুন, উঠে দাঁড়ান, সবাই জাগ্রত হন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সবাইকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। কোনও বিকল্প নেই, আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করবো। তার আগে অন্য কোনও কিছু চিন্তা করবো না বন্ধুরা। আমরা এখন একেবারে শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। এ শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এদের পতন ঘটাবো। বাধ্য করবো দেশনেত্রীসহ সব রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য। আন্দোলন করতে হবে এবং সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
প্রতি ঘরে ঘরে যেতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভয়াবহ যে দানব আমাদের বুকের ওপর বসে আছে, তাকে সরানোর জন্য আন্দোলন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করার জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা দরকার। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন সবাইকে নির্বিশেষে ভয়ঙ্কর এ স্বৈরাচার সরকার, যা আজকে বিশ্ব স্বীকৃত, তাকে হটাতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।