চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতদের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তদন্তের দাবি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের বন্ধু, আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। তারা তদন্ত চাইতেই পারেন। কিন্তু এখানে আমরা নিজেরাই তদন্ত করছি। শেখ হাসিনার সরকারই তদন্তের বিষয়ে যথেষ্ট। অন্য কারও মাথা ঘামানোর দরকার নেই।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি সেমিনারের আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কক্সবাজারের একরামের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। যা যা অভিযোগ আসছে, সেই বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারই তদন্তের বিষয়ে যথেষ্ট। অন্য কারও মাথা ঘামানোর দরকার নেই। শেখ হাসিনা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। তিনি (শেখ হাসিনা) বারবার বলেছেন, এ অভিযানে যদি কোনও নিরীহ মানুষ টার্গেট হয়, যারা দোষী তারা রেহাই পাবে না। তাদেরও বিচার হবে। আমরা আটঘাট বেঁধে নেমেছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি কী সমালোচনা করলো, কে কী তদন্ত করলো...। করুন তদন্ত। একরাম কার লোক? আপনাদেরও (বিএনপির) কে কে আছে তা খোঁজা হচ্ছে। আর একরামকে যদি অন্যায়ভাবে কেউ মেরে ফেলে সেটারও কিন্তু বিচার হবে, প্রমাণিত হলে।’
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্যেও কে কোথায় আছে, কে রাঘববোয়াল, কে চুনোপুঁটি, তা খোঁজা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত তা দেখা হচ্ছে। বিএনপির ঢাকা উত্তর সিটির কমিটির বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় দেখলাম। পত্রিকার রিপোর্টে আছে, এরমধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী এ কমিটিতে। তাই আপনারাই তো স্বীকার করলেন, সদ্যঘোষিত কমিটিতে মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী আছে। আর কোথায় কোথায় আছে তা খোঁজা হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী। এখন বিএনপি না এলে সময় স্রোত তো অপেক্ষা করবে না। সংবিধান ও গণতন্ত্র কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। ৫ জানুয়ারির ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ভুলের মাসুল বিএনপিকেই দিতে হবে।
দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদে ফেলার খোয়াব দেখে লাভ নাই। বিএনপি না এলেও তারা ছাড়া বাকি সব নিবন্ধিত দলই আসবে। নিবন্ধিত দল তো ৩৭টি আছে। একটা গেলে আরও ৩৬টা থাকবে। কোনও অসুবিধা আছে?’
তিনি বলেন, বিএনপি ছাড়া সব নিবন্ধিত দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই ৫ জানুয়ারির মতো আগামী নির্বাচনও তাদের জন্য থেমে থাকবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের পরিবেশ যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তা নিয়ে রাজনীতিবিদরা কোনও কথা বলছেন না। তারা দূষণ, ভেজাল, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেন না। সবাই তত্ত্ব কথা বলেন, রাজনীতির নানা তত্ত্ব দিয়ে তারা বলে বেড়াচ্ছেন সরকার খারাপ, দেশ খারাপ। দেশ আজকে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হয়েছে, এর কোনও সুনাম নেই।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন হাইকোর্টে হলো, আপিল বিভাগেও হলো। তখন কি সরকার হস্তক্ষেপ করেছে? এখন যখন জামিনের আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে তখন তারা তা মেনে নিতে পারছেন না। তারা আদালত মানে না।
বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও কার্যনির্বাহী সদস্য মেরিনা জামান। আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, পরিবেশবিদ আতিক রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজা খাতুন, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।