বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, যিনি পরিবহন সেক্টরের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সুতরাং তার আশকারায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেক্টরে অরাজকতা লেগেই আছে। কিছু প্রশিক্ষণহীন অদক্ষ চালক ও লাইসেন্সবিহীন কম বয়সী চালক এবং চলাচলে অনুপযুক্ত যানবাহনের প্রাধান্য থাকলে সড়ক-মহাসড়কে মরণঘাতী ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তেই থাকবে। আর এগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে শুধুমাত্র নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের প্রশ্রয়ে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থীর হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে দেশজুড়ে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লেও তাতে সরকারের বিন্দুমাত্র টনক নড়েনি। বরং বেপরোয়া বাসচালক দিয়ে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের গুলি, টিয়ার গ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তা কেবল নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকদের পক্ষেই সম্ভব। ন্যায় বিচার না পাওয়া, বঞ্চিত, প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের হিংস্র আক্রমণে আহত করার পর অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারের এই অমানবিক আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল।’
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘ভোগ-লালসায় মত্ত ক্ষমতাসীনরা মানবিক বিবেচনাগুলো পদদলিত করছে। দুই শিক্ষার্থীর এই মর্মস্পর্শী নিহত হওয়ার ঘটনার পরও সরকারের নির্লিপ্ত উদাসীনতা হঠকারী বাসচালকদের উৎসাহিত করেছে। গতকালও (মঙ্গলবার) একজন শিক্ষার্থী কুমিল্লায় গাড়িচাপায় নিহত হয়েছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করা জবাবদিহিহীন সরকার শুধুমাত্র ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে নির্দয়ভাবে দমন করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বলেই অপরাধীরা প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।’