বর্তমান নির্বাচন কমিশন বহাল রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করে নবগঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট। বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের কোনও সুযোগ নেই মন্তব্য করে এই জোটের নেতারা বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেখানে এমন হাল, সেখানে জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন জাতীয় সংসদ বহাল রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ নেই।
রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাম গণতান্ত্রিক জোট বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিন সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, মুরাদ মোর্শেদ, আবু জাফর, অ্যাড.আবুল কালাম আজাদসহ জোটের শরিক দলগুলোর মেয়র প্রার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। জোটের কেন্দ্র্রীয় সমন্বয়ক সাইফুল হক লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, সরকারি দলের ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, শক্তি প্রয়োগে ভোট দেওয়া থেকে ভোটারদের বিরত রাখার মাধ্যমে সদ্য অনুষ্ঠিত রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন তামাশার নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। তিন সিটিতে জালিয়াতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসব সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান নেতারা। এছাড়া, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ও নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি করেন তারা। বাম এই জোট সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
বাম নেতারা বলেন, ২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ যেভাবে একতরফা দেশ শাসনের বন্দোবস্ত কায়েম করেছে, এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের তৎপরতা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা তারই ধারাবাহিকতা। এই নির্বাচন বুঝিয়ে দিচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও আদৌ কোনও ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য বা গণতান্ত্রিক কায়দায় করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা এই সরকারের নেই।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাসদ প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলেছিল তারা খুলনা-গাজীপুরের মতো নির্বাচন করবে না। তারা ঠিকই বলেছিল, এবার তারা খুলনা-গাজীপুরের চেয়েও খারাপ নির্বাচন করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বজলুর রশিদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন ও রাগিব আহসান মুন্না, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বহ্নিশিখা জামালী, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ।