শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজ বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা: ওবায়দুল কাদের

 



ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। পাথরের নমুনা দেখে আমি বলতে পারি, এই হামলা পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাথরগুলো সচরাচর রাস্তায় পাওয়া যায় না; এগুলো শিলাপাথর।’

শনিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হামলাকারীরা ব্যাগে করে এই পাথর নিয়ে এসেছে। তাদের কারো কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। এই হামলার স্টাইল দেখে আমি বলতে পারি, এটা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা করতে পারে না। কারণ, এটা কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। ছাত্রদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজ বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা এসব কর্মকাণ্ড করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি পাথর দেখিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই পাথর আজকে স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে যা আছে, তার চেয়ে বেশি আছে ওই বিএনপি এবং তাদের সাম্প্রদায়িক দোসরদের হাতে। তারা নতুন নতুন স্কুল ড্রেস তৈরি করছে। মিরপুর থেকে নকল আইডি কার্ড তৈরি করছে। এরপর তারা স্কুল ও কলেজের ড্রেস পরে আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিসের দিকে তেড়ে আসছে। এত দুঃসাহস। এরা স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী নয়। এরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত। যারা আজকে দেশকে অশান্ত করতে চায়, সেই জন্য তারা আমাদের পদত্যাগ চায়। বাংলাদেশে কোনও দিনও অশান্তি দূর হবে না যদি বিএনপি নামক এই দলটির অস্তিত্ব থাকে। দেশের অশান্তি দূর করার জন্য টপ টু বটম বিএনপি নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত। এরা না সরলে দেশ শান্ত হবে না।’
আওয়ামী লীগের নেতারা কোনও ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি দাবি করে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কিন্তু কারা ছাত্রছাত্রীদের ড্রেস ও আইডি ব্যবহার করে সংঘাতের উসকানি দিচ্ছে? কারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের ওপর ভর করছে? এটাই আমাদের প্রশ্ন। কারা নাশকতার পরিকল্পনা আঁটছে? উসকানি দিচ্ছে? রক্তপাত ঘটাতে তৎপরতা চালাচ্ছে?’
বিএনপি তাদের আন্দোলনের ব্যর্থতা ঢাকতে সব সময় আন্দোলনের অপেক্ষায় থাকে বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি অপেক্ষা করে কোথাও থেকে কোনও মোক্ষম একটা ইস্যু খুঁজে পাওয়া যায় কিনা। অবশেষে একটি দুর্ঘটনায় দুই ছাত্রের মৃত্যুতে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নয় দফা দাবিতে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে তখনই এই মহলটি ষড়যন্ত্র শুরু করে।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়ে কারাগারে। তারা তার মুক্তির জন্য পাঁচ হাজার লোকের এটা সমাবেশ বাংলাদেশে করতে পারেনি। তারা একটা হরতাল, বিক্ষোভ বা ধর্মঘট করতে পারেনি। তাদের নেত্রীর জন্য আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতা ঢাকতে তারা ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটাতে চাচ্ছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফোনালাপ আপনারা শুনেছেন। তিনি কুমিল্লার নেতাদের বলেছেন, ‘আগে ঢাকা অবরোধ করতে হবে। কুমিল্লা বসে আন্দোলন করে কোনও লাভ হবে না। আন্দোলন সফল করতে হলে ঢাকা দখল করতে হবে। তাই কুমিল্লা থেকে কমপক্ষে পাঁচশ নেতা ঢাকায় চলে আসো।’”
‘আমরা আন্দোলনকে সহনশীলভাবে মোকাবিলা করছি’ যোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখেছেন কীভাবে একটা অরাজনৈতিক আন্দোলনকে নোংরা রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত ও সাম্প্রদায়িক শক্তি। ছাত্রদের ভয় পাচ্ছে না। এখানে আমাদের অফিসের সামনেও গোলাগুলি হয়েছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের আহ্বান জানাবো তোমরা শান্ত থাকো এবং ঘরে ফিরে যাও। প্রধানমন্ত্রী অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা আমাদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন কোমলমতি ছাত্রদের ওপর কোনও প্রকার বল প্রয়োগ না করতে।’