সোমবার (২৭ আগস্ট) নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দুই নম্বর সাক্ষী হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন আদালতে যাননি, এমন প্রশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা বরং আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করি। সরকারের উচিত নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্দেশ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আব্দুল কাহার আকন্দের পেশকৃত চার্জশিটে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্যই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। শেখ হাসিনাও ক্রমাগত বলে এসেছেন এই হামলার ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা কোনও আইনজীবীকে শেখ হাসিনা কখনও খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান তাকে হত্যা করতে চেয়েছেন বলে বলেননি। ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা সাব জেলে বন্দি থাকার সময় এই মামলার পঞ্চম তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল কবির তাকে জিজ্ঞাসা করলে ১৬১ ধারায় গৃহীত জবানবন্দিতে তিনি কোথাও খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেননি, কিংবা তাদের সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করেননি। এমনকি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মামলার (ভিকটিম) চার্জশিটভুক্ত দুই নম্বর সাক্ষী থাকার পরও তিনি আদালতে আসেননি, সাক্ষ্য দেননি, কোনও কথা বলেননি, সহযোগিতাও করেননি। অথচ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরপরই বিএনপির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়, উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা তদন্ত কাজে অসহযোগিতা করেন। কিন্তু বিএনপি তখনও নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছে, এখনও জানায়। আমরাও ওই ঘটনার জন্য দায়ী প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কারণ, আমরাও চাই এমন নির্মম অরাজনৈতিক ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়।’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দুরভিসন্ধিমূলক ছাড়া কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছে যে তাকে বহনকারী গাড়িতে কয়েকটি বুলেট ছোড়া হয়েছে এবং তা গাড়ির কাচ ও চাকায় আঘাত করেছে। অথচ কোনও তদন্ত প্রতিবেদনে কিংবা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেনেড হামলা ছাড়া গুলি ছোড়ার কোনও কথাই উল্লেখ নেই কেন? কে বা কারা এসব গুলি ছুড়েছে তা কি এই ঘটনার জন্য প্রাসঙ্গিক নয়?’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পূরণের অপচেষ্টায় রত হয়েছে। কেননা, বিচারক নয়, এখন কোন মামলার রায় কী হবে, কবে হবে, তা ঠিক করেন আইনমন্ত্রী।’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই কথার অর্থ হলো তিনি (ওবায়দুল) জানেন যে কী রায় হতে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বলা এসব বক্তব্যকে কোনও বিচারেই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসনের পক্ষে বলা যাবে না। একমাত্র স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই শুধু এমন ঘটনা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন- গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না খালেদা জিয়া: হাছান মাহমুদ