মঞ্চে থাকা ছাত্রদলের একাধিক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভায় সংগঠনের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠলে পদপ্রত্যাশী ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পদপ্রত্যাশীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, ‘সংগঠনের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এখন কোনও নেতৃত্ব নাই, কমিটিও নাই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে যারা আছেন তারা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা অবৈধ। কাজেই এই অবৈধ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অবৈধ সরকারের মধ্যে মৌলিক কোনও পার্থক্য নাই। উভয়েরই জনভিত্তি নাই। নেতৃত্বে থাকার কোনও অধিকার নাই।’
আরেকটি সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পদপ্রত্যাশীদের বাকবিতণ্ডার সময় বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের অনেকে মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি আমলে নিতে কাউকে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। প্রায় মিনিট দশেক তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রুহুল কবির রিজভী এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এগিয়ে আসেন। শিগগিরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হবে আশ্বাস দিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মঞ্চ থেকে নামতে অনুরোধ করেন। পরে পদপ্রত্যাশী ছাত্রদল নেতারা মঞ্চ ত্যাগ করেন। তবে পরবর্তীতে ছাত্রদল সভাপতি বক্তব্য দিলেও সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনসভার মঞ্চে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সহ-সভাপতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিগত কয়েক মাস ধরেই ছাত্রদলের নতুন কমিটির দাবিতে সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের সঙ্গে পদপ্রত্যাশী নেতাদের মনোমালিন্য চলছে। এই অবস্থায় যখন বিএনপির আজকের জনসভা সফল করতে আহ্বান জানিয়ে যোগাযোগ করা হয় তখন অনেকে এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। কেউ কেউ মুখের ওপরেই বলেছেন, ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ নেই। তাই আমরা মেয়াদহীন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব মানি না। মানতে বাধ্যও নই।’
তিনি বলেন, ‘গতকালের কথাবার্তার ধারাবাহিকতায় আজ জনসভার মঞ্চে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য দিতে উঠলে তখন পদপ্রত্যাশীদের প্রতিবাদের মুখে পড়েন। কেউ কেউ তাদের ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। পরবর্তীতে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পান। দলের সিনিয়র নেতাদের তখন বলতে শোনা যায়, শিগগিরই সংগঠনের স্বার্থে কমিটি ঘোষণা করা প্রয়োজন। নতুবা আগামী আন্দোলনে পস্তাতে হবে।’
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঞ্চে তেমন কিছু হয়নি। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী দিনের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে নতুন কমিটি দেওয়া উচিত। কারণ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কমিটি না হওয়ায় অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঞ্চে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে পদপ্রত্যাশীদের অনেকে আমাকে বলেছে এই সংগঠনের নতুন কমিটি হওয়া দরকার। কবে নতুন কমিটি হবে এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে।’
প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। তখন ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর প্রায় ১৬ মাস পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ৭৩৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও এখন পর্যন্ত মেয়াদহীন কমিটি দিয়েই চলছে সংগঠনটি।