প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পুরো জাতি হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২০১৮- এর আয়োজনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সামনে নির্বাচন, তাতে জনগণের যে প্রত্যাশা— সেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তাতে জাতি হতাশ। এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো— অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, এটা জনগণের দাবি। এই দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।’ আরে সংবিধান তো মানুষের তৈরি করা।’’
ইতোপূর্বে যে সংবিধান ছিল তা আওয়ামী লীগ পরিবর্তন করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অসংখ্যবার (সংবিধান) কাটাছাট করে তাদের দলের সুবিধা মতো করে নিয়েছেন। এখন যে পথে তারা এগোচ্ছেন, এটা সম্পূর্ণ একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করার পথ। জনগণের রায় নেওয়ার পথ দেখতে পাচ্ছি না।’
সমগ্র দেশে সরকার ধরপাকড় শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেফতার শুরু করেছে। তারা বলে গণতন্ত্র আছে। কিন্তু এভাবে একদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করবে, আর অন্যদিকে তারা নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়ে যাবে,এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ আশা করেছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেন জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা তারা করবেন। কিন্তু সেটা তারা করেননি। এটা তাদের ব্যর্থতা। এর জন্য সব দায়দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের দাবি নিয়ে লড়াই করছি। এটা বিএনপির দাবি নয়। জনগণ চায় এমন একজন প্রতিনিধি আসবেন, যিনি প্রকৃত পক্ষে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। সেই দাবি নিয়ে আমরা কথা বলছি, সংগ্রাম করছি ও দাবি জানাচ্ছি। এর জন্য আজ খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান দেশের বাইরে, হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে আছেন। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য জনগণই ব্যবস্থা নেবে। জনগণই প্রতিবাদ করবে।’
ইভিএম ব্যবহার করেই যদি ইসি নির্বাচন করে, তাহলে কী করবে বিএনপি, এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এটাকে রিজেক্ট করে দিয়েছি।’
‘নির্বাচন হবেই এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই’, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই কথাগুলো বলেই তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একদলীয় শাসন প্রবর্তন করতে চায়।সুতরাং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাদের যত প্ল্যান আছে, তা ভেঙে দিতে হবে।’
‘আজকে জাতি আশা করেছিল বৃহত্তর স্বার্থে জনগণের স্বার্থে দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সৃষ্টি করার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক কথা বলবেন’, বলে যোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিত্ব যাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে আসতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেবেন। সেটা তারা করতে পারেননি। সম্পূর্ণভাবে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তাদেরকেই নিতে হবে।’
বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মুনিরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন— গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি জোনায়েদ সাকি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান ববি হাজ্জাজ প্রমুখ।