ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন,ইসলামী আন্দোলন একটি নিয়মতান্ত্রিক গণমুখী রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হলে ৩০০ আসনেই হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দেবেন তারা। শুক্রবার (৫ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্নীতি,দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সারা দেশ থেকে দলটির নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে অংশে নেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে ইসলামী আন্দোলন দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। দুর্নীতি ও মাদক উৎখাত করবে। সমঝোতা ও সহনশীল রাজনীতির বিকাশ ঘটাবে। শ্রমজীবী মানুষ, সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষাসহ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা কায়েম করা হবে। ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হলে নারীরা সবচেয়ে বেশী সম্মানিত হবেন। নারীরা নিরাপত্তা ও অগ্রাধিকার পাবে।’
মুফতি রেজাউল করীম বলেন,‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের পর থেকে সেনা মোতায়েন এবং নির্বাচনের দিন তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক জোট নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখোমুখি অবস্থানে থেকে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারি দলের প্রতি সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বললেও সরকার কোনও উদ্যোগ নেয়নি। গত ১০ বছরে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। কিন্তু আগামীতে মানুষ তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন মানবে না। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোনও নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। সংসদ ভেঙে ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন চায় দেশবাসী।’
ইসলামী আন্দোলনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচিগুলো হচ্ছে— ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট বরাবর স্মারকলিপি পেশ। সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। সেখানে জায়গা না পেয়ে মৎস্য ভবন ও শাহবাগ মোড় পর্যন্ত অবস্থান নেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, নূরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আশরাফ আলী আকন, এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কাদির, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আশরাফুল আলম, খালিদ সাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান, কেএম আতিকুর রহমান, আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী।