প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ‘বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা’ কামরুল হাসান নাসিম। বুধবার বিকাল তিনটার দিকে নাসিমের পক্ষ থেকে উদ্যোগের ‘সংকটকালীন দুই সদস্য’ জহির উদ্দীন ও কবি মেহরাব পিয়াস এই চিঠি তুলে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে।
মেহরাব পিয়াস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বুধবার বেলা তিনটার দিকে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
কামরুল হাসান নাসিম তার চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমরা দেশবাসী অবগত যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সকলের মতো এই নির্বাচন নিয়ে আমার মনে শঙ্কা নেই। দুটি বিশেষ দলের সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতকে পুঁজি করে যারা বিদেশিদের খুশি করে ক্ষমতার মসনদে বসার অভিনব আদলে মৌসুমী পাখি হয়ে বাংলার আকাশে উড়ছে তাদের প্রতিহত করতে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বিএনপির নেতৃত্ব ইস্যুতে সুপরামর্শ চেয়ে, নির্বাচনমুখী বিএনপি নেতৃবৃন্দের পাশে দাঁড়াতে, নির্বাচন কমিশন ইস্যু প্রশ্নে, নতুন প্রজন্মের জন্য করণীয় ভূমিকা প্রশ্নে, জাতীয়তা-সংবিধান-অর্থনীতি-পররাষ্ট্র নীতি-ডিফেন্স ডক্ট্রিন ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক ঐক্য প্রশ্নে এবং কত বছরের মধ্যে দেশের মানুষগুলোকে রাজনৈতিক এডুকেশন দেওয়ার সামর্থ্যে যাবো সেই প্রসঙ্গে বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা হিসাবে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ফলত আপনাকে সংলাপের আয়োজন করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’
কামরুল হাসান নাসিম প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া তার চিঠির শেষভাগে লেখেন, বিএনপি পুনর্গঠন করতে গিয়ে আমি বলতে চাই, দলের ৬০ শতাংশ নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে রয়েছেন। তবে সময় ও পারিপার্শ্বিকতা বুঝে তাদের সামনে আনতে চাই। কাজেই আপনার মূল্যবান সময় এই অতি সাধারণের জন্য বরাদ্দ হলে আমি এককভাবেই আপনার সঙ্গে সংলাপে যেতে স্বস্তিতে থাকবো। সংকট উত্তরণে একমাত্র সমাধান হবে সংলাপের আয়োজন করা। আপনি ইতোমধ্যে তেমন উদারতায় বসবাস করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে সম্প্রীতি, সহযোগিতা, সহমর্মিতার রাজনীতির ভিত্তির উন্মোচনে গিয়েছেন। যা আপনার ব্যক্তিত্বকে আরও বড় ইমেজে দেখার অবকাশে গিয়েছে। একটা দর্শন কিংবা মত রেখেই ইতি টানি। আমার রচিত 'নেতৃত্ব' বইটির দুই নম্বর মতবাদের শেষ লাইনটি হলো, ‘তুমি (জনগণ) রাজনৈতিক শিক্ষিত হওয়ার পরেও রায় যদি পড়ে অপশক্তির বাক্সে তবে রাজনৈতিক সৎ নেতৃত্বের উচিত হবে তাদের সঙ্গে দ্রুত রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততায় পৌঁছানো।’