স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।
বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ১৪ দলের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এ কথা বলেন তিনি।
নাসিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ চলতে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ সরকার হবে। বিরোধী যারা থাকবে তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হবে। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে আমরা বাংলাদেশ থেকে রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।’
নাসিম আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় মহাজোট জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বিজয় লাভ করেছে। আমি মনে করি, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছেন, আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো—সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে, আজকে আলোকিত বাংলাদেশ হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে। তরুণ সমাজ এবং নারীরা পর্যন্ত আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তির বিজয়ের জন্য কাজ করেছে।’
বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট শপথ না নিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিচ্ছে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে নাসিম বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও জোট বা দল প্রতিবাদ করতেই পারে। এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। স্মারকলিপি যদি দিয়ে থাকে তাহলে ভালো। আমরা আশা করবো, তারা সংসদে শপথ গ্রহণ করবে, সংসদে তারা ভূমিকা রাখবে। জনগণের ম্যান্ডেট তারা পেয়েছে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেজন্য আমি মনে করি, তারা সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, ধ্বংসাত্মক এবং নৈরাজ্যমূলক কাজ তারা করবে না।’
এবার সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রতিষ্ঠা হবে কিনা, জানতে চাইলে নাসিম বলেন, ‘আমাদের সবারই আশা—যারা বিরোধী আসনে বসবে, সংখ্যায় যতই কম হোক না কেন, তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তারা তাদের ভূমিকা রাখবে। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর সময় জাতির জনকের উপস্থিতিতে নামমাত্র বিরোধী দলে আসন ছিল। তখনও কিন্তু তারা বিরোধিতা করেছে। আসন দিয়ে বিচার করলে হবে না। সংসদে তাদের ভূমিকা রাখাটাই বড় বিষয়। তারা সে ভূমিকা রাখবে এটাই আমি আশা করি। তারা সংসদে আসুক, ভূমিকা রাখুক, আলোচনা করুক, আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।