মেগা প্রজেক্ট হলো কিছু লোকের মেগা উন্নয়ন: শাহদীন মালিক

নাগরিক ঐক্যের আলোচনা সভামেগা প্রজেক্ট হলো স্বল্প কিছু লোকের মেগা উন্নয়ন। এতে জনগণের কোনও উন্নয়ন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। বুধবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক রাজনীতি ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র নেই মানে মেগা প্রজেক্ট। মেগা প্রজেক্ট হলো স্বল্প কিছু লোকের মেগা উন্নয়ন। এতে জনগণের কোনও উন্নয়ন হয় না। মেগা প্রজেক্টের সুবিধা হল দীর্ঘদিন সরকারে থাকা যায়। নির্দিষ্ট পোস্টিংয়ে থেকে টাকা বানানোর একটা পথ হয়। যে দেশে মেগা প্রজেক্ট হয় সে দেশের সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জনগণের বারোটা বাজে। জনগণের কোনও উন্নয়ন হয় না। আমাদের সরকার এই পথ ধরেই চলছে।’

জনগণ ক্ষমতার মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই দল ক্ষমতায় এসেছে বলতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে এটা আমাদের ভুল। ক্ষমতায় কেউ আসে না। এই দেশে ক্ষমতার মালিক এ দেশের জনগণ। আমাদেরকে বলতে হবে, অমুক তারিখে অমুক দল সরকার গঠন করেছে, ক্ষমতায় আসেনি। ক্ষমতা আমার, আমরা যারা নাগরিক আছি তাদের। কোনও দল কখনো ক্ষমতায় থাকতে পারে না। আমাদের এই এক্সপ্রেশনটা বাদ দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, '৬৯-এর নির্বাচনও সরকার গঠনের নির্বাচন হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, ওই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল সংবিধান প্রণয়নের জন্য। ওটা ছিল গণপরিষদ নির্বাচন। গণপরিষদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে যারা, তারা তাদের আদর্শ অনুসারে সংবিধান প্রণয়ন করবে। পাকিস্তান সরকার মনে করেছিল, এই ধরনের সংবিধান হলে কেন্দ্র ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে, আধিপত্যের প্রতিপত্তি কমে যাবে। এজন্য তাদের আপত্তি ছিল। এর সঙ্গে অবশ্যই ক্ষমতার একটা প্রশ্ন জড়িত ছিল।’

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ভোট নিয়ে মানুষের উৎসাহ ও আগ্রহ কমে গেছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। উপজেলা নির্বাচনে মানুষ যাচ্ছে না। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্ররা সবকিছু উপেক্ষা করে ভোট দিতে গিয়েছিল, কিন্তু তারা ভোট দিতে পারেনি। আমাদের স্বাধীনতা এখন পরাধীনতার শামিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিডিপি মানেই উন্নতি না। জিডিপিতে আমরা যা যোগ করি তারমধ্যে বিদেশ থেকে যারা টাকা পাঠায় তাও যোগ হয়। বিদেশ থেকে যারা টাকা পাঠায় তা কি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কোনও অংশ, না। কিন্তু সেটা আমি আমার গ্রোথের মধ্যে দেখাচ্ছি।

বাকশাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমি দেখছি প্রধানমন্ত্রী নিজে বলছেন যদি বাকশাল হতো তাহলে আর ভোট নিয়ে কোনও সমস্যা হতো না। কথা তো ঠিকই, বাকশাল হলে তো আর ভোট লাগে না। উনি সে পথেই যাচ্ছেন। মানুষ মানে না বলে, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভোটের নামে ডাকাতি করছেন।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. জাহিদুর রহমান, রুবি রহমতউল্লাহ ও শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।