সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় কিছু পেতে হয়: মির্জা ফখরুল

ময়মনসিংহ ফোরামের অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসংগঠনকে ডায়নামিক করে দেশনেত্রীর মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি এবং নেতৃবৃন্দের মুক্তির আন্দোলন বেগবান করার কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই, লড়াইয়ের কোনও বিকল্প নেই। বড় কিছু পেতে হলে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই পেতে হয়। আমাদের হতাশ হবার কোনও সুযোগ নেই। আমাদের বুঝতে হবে আমরা অত্যন্ত কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছি। আমরা আশা করি শক্তিশালী সংগঠনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।’

সোমবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন আর বক্তব্যের মধ্যে থাকতে চাই না। কিছু কাজ করতে চাই। সংগঠনকে শক্তিশালী করে ডায়নামিক সংগঠনে পরিণত করে দেশনেত্রীর মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি এবং আমাদের নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলন করতে চাই।

তিনি বলেন, সরকার সুচিন্তিতভাবে অত্যন্ত গুছিয়ে এক দলীয় শাসনের দিকে যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা সেইভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারিনি। কারণ আওয়ামী লীগ সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুঃশাসনের মধ্যে নিয়ে নজিরবিহীন নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়েছে। আপনাদের বুঝতে হবে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক লড়াই সবসময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

ফখরুল বলেন, বর্তমান সময় খুব কঠিন সময়, এই সংগ্রামও খুব কঠিন। এই সংগ্রামকে হাসি খেলার মধ্য দিয়ে উত্তরণ সম্ভব নয়। আজকে আমরা যদি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে তাকাই দেখবেন সব জায়গায় কর্তৃত্ববাদ ঝুঁকে বসে আছে। গণতন্ত্র পিছিয়ে যাচ্ছে। যারা এ বিষয়ে কথা বলেন তারা সেইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থ্যান আর ২০১৯ এক সময় নয়। এই কথাটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে এবং আমাদের পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। আর এর জন্য ভাবতে হবে, পড়তে হবে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদের চিন্তা করতে হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়। যাতে বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে লড়াই করতে পারে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলে, বেগম জিয়া এতটাই অসুস্থ যে আমি বর্ণনা করতে পারবো না। আমি নিজে গিয়েছি, দেখেছি তাকে। তিনি নিজে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। তাকে সাহায্য করতে হয়। হাঁটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে চলতে হয়। খেতে পারেন না, তার শরীর একদম ভালো নেই।