বাকি রইলেন শুধু মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ছবি)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত ৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭ জন শপথ গ্রহণ করলেও শপথ নেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করার শেষ দিন ছিল আজ। ফলে নিয়ম অনুযায়ী মির্জা ফখরুলের সদস্যপদ বাতিল করে তার নির্বাচনি আসন বগুড়া-৭ শূন্য হওয়ার কথা। তবে মির্জা ফখরুল কোনও কারণ দেখিয়ে শপথ গ্রহণের তারিখ বাড়ানোর জন্য চিঠি দিলে সংসদের স্পিকার সময় বাড়াতে পারবেন।

সংবিধানে বলা আছে, সংসদের প্রথম বৈঠকের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে সদস্যপদ বাতিল করে আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে। একাদশ সংসদের প্রথম বৈঠক বসে গত ৩০ জানুয়ারি। এই হিসাবে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের শেষ দিন ছিল আজ।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ছয়টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের কাছে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপির নির্বাচিত চারজন সংসদ সদস্য। তারা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদ। শপথ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচিত এই ৭ সংসদ সদস্য জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য শপথ গ্রহণ করেছেন। ফলে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ৭ মার্চ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ গ্রহণ করেন। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর গত ২ এপ্রিল গণফোরাম থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খানও শপথ গ্রহণ করেন। তবে তাকে বহিষ্কার না করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ’আসনের মধ্যে মাত্র আটটি আসনে জয় পায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের মধ্যে বিএনপি থেকে ছয় জন এবং গণফোরাম থেকে নির্বাচিত হন দু’জন। তবে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোটের দিন রাতেই ফলাফল বর্জনের ঘোষণা দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।