বক্তব্যের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ রাজাকারের তালিকা তৈরি করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে একটি রাজনৈতিক প্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করে। এ কারণে আজ মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের তালিকা তৈরি করছে।
সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে, বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছে। মিডিয়াকে পর্যন্ত তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। আজ দেশে কোথাও গণতন্ত্র নেই।
আওয়ামী লীগের আমলেই গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে, দখলদার সরকারের হাতে তারাই গুম-খুনের শিকার হচ্ছেন। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার। বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তার (খালেদা জিয়া) মুক্তি ছাড়া আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা যাবে না। দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য সবাইকে দুর্বার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং সরকারকে বিদায় নিতে বাধ্য করতে হবে। আজ বিজয় দিবসে এই হোক আমাদের শপথ।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব মতে, র্যালিতে প্রায় ১৫ হাজারের মতো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিএনপির র্যালিকে কেন্দ্র করে দুপুর আড়াইটা থেকে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে র্যালি করতে চাইলেও পুলিশের অনুমতি না থাকায় কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি।
মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।
র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম, আব্দুল হাই, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ।