বিজেপি সরকার মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

৭৮৯

ভারতে যেভাবে নাগরিক আইন সংশোধন করা হয়েছে তাতে স্পষ্টভাবে মুসলিমবিদ্বেষ ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, ‘বিজেপি সরকার মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। যতই সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প সৃষ্টি হয়, ততই বিজেপির ভোট পাল্লা দিয়ে বাড়ে। বিজেপি তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট ধামাচাপা দিতে আরও বেশি করে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবে।’

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘ভারতে বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক সিএএ ও এনআরসি বাতিল, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমতার দক্ষিণ এশিয় মৈত্রী গড়ে তোলার আহ্বান’-বিষয়ক এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিজেপির এই ফাঁদে আমাদের পা দেওয়া চলবে না। বরং এনআরসি ও সিএএ এর বিরুদ্ধের সংগ্রামে ধর্ম-বর্ণ পরিচয়ের বাইরে জনগণের সংহতি রচিত হয়েছে। এই সংহতি সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর বিরুদ্ধে, সেটাই জনগণকে নতুন করে পথ দেখাতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নতুন ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দিতে পারে।’

সমাবেশে বক্তারা এনআরসি ও সিএএ এর বিরুদ্ধে ভারতীয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, এই আন্দোলনের ভেতর দিয়ে জনগনের ভেতরে যে সংগ্রামী সংহতির বীজ রোপিত হয়েছে তার মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনীতি শুরু হতে পারে।

তারা আরও বলেন, ভারতের সাম্প্রদায়িক এনআরসি ও সিএএ এর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলা ন্যাক্কারজনক এবং বাংলাদেশ সরকারের ভারততোষণ নীতিরই বহির্প্রকাশ।

সমাবেশ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তারা।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের অন্যতম সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখ্তার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনির উদ্দীন পাপ্পু, জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ।