সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ অধিবেশনে সারাদেশ থেকে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় মাওলানা ইসহাক বলেন, ‘দেশে একদলীয় ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চলছে। সরকার ন্যূনতম সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ বেড়েই চলছে। বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, তাই জনগণের কথা চিন্তা করে না। তারা নিজেদের আখের গোছানো আর ভারত তোষণে ব্যস্ত।’
অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘দেশ আজ এক মহা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একদিকে জনগণের বিরুদ্ধে অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের মানুষের ঐক্য বিনষ্ট ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত চলছে। এসব ষড়যন্ত্র ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির ভাষাসৈনিক মাসউদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা বিরাজ করছে। ধনবৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।’
নায়েবে আমির মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান বলেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থে হিংসার রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলাকে একত্রে বসে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
নায়েবে আমির মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকে ভারতের আসামে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী মুসলমানদের বিতাড়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। পার্শবর্তী দেশের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সরকারকে সরব ও প্রতিবাদী হতে হবে।’
অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাবসহ রাজনৈতিক সংকট ও স্থবিরতা প্রসঙ্গ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গ, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন প্রসঙ্গ, শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন পরিস্থিতি প্রসঙ্গ, ভারতের সাম্প্রদায়িক এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গ ও বিভিন্ন দেশে মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গে সাতটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন– দলটির নায়েবে আমির মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা একেএম আইউব আলী, কেএম নজরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শফিউল অলম, মো. আবদুল জলিল প্রমুখ ।