সিটি ভোটে পোস্টার লাগানোর জায়গা পাচ্ছে না বিএনপি?

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছে দলীয় মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের পোস্টার। তবে তার পোস্টারের চেয়ে কমিশনার প্রার্থীর পোস্টারে প্রচারণাই সেখানে বেশি।

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা দৃশ্যমান প্রচারণায় অংশ নিলেও পোস্টার-লিফলেট প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের পোস্টার প্রায় নেই। খোদ দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও জায়গা পায়নি দলীয় মেয়রদের পোস্টার।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পোস্টারেই ছেয়ে আছে পুরো শহর। তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের প্রচারণার পোস্টার লাগানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের তরফে কোনও কোনও জায়গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন নেতা।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ডিএসসিসি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকরা উসকানি দিয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তার অভিযোগ, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একটি বিশেষ মহল ক্রমেই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রচার কমিটির আহ্বায়ক দলটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ঢাকা শহরের অলি-গলিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পোস্টারে ছেয়ে গেছে। আমাদের নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতেও সুতা দিয়ে পোস্টার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের। আমাদের পোস্টার লাগানোর তেমন কোনও সুযোগ নেই। 

আবদুস সালামের দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের পোস্টার লাগাতে দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল রবিবারও বলদা গার্ডেনের সামনে পোস্টার সাঁটানোর সময় ৪ জন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এছাড়া লালবাগ ২৬নং ওয়ার্ড ও খিলগাঁও ১নং ওয়ার্ডে তাদের মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।  

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও স্বাধীনভাবে পোস্টার লাগানোর সুযোগ পায়নি বিএনপি। সেখানেও ঝুলছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের পোস্টার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া যেকোনও মানুষের মনে হতে পারে এটি আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কোনও নির্বাচনি ক্যাম্প অফিস। কারণ, এখানে আমাদের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের পোস্টারের চেয়ে বেশি শোভা পাচ্ছে তাপসের। তাই বিএনপিও রাস্তায় পোস্টার সাঁটানোর চেয়ে সশরীরে ভোটারদের কাছে যাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও পোস্টার লাগাতে অনীহা রয়েছে। কারণ, পোস্টার লাগাতে গিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির প্রচার কমিটির প্রধান দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ না নিতে। আমরা পোস্টার লাগানো ও লিফলেট বিতরণ করার জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছি। কিন্তু তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও পোস্টার লাগানো হলে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এখন আমরা সশরীরে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এতে তাদের ভালো সাড়া পাচ্ছি।   

১০ জানুয়ারি থেকে ঢাকা সিটি নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়। এই ৪ দিনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা একাধিক অভিযোগ দিয়েছে রিটার্নিং অফিসারের কাছে। এরমধ্যে দক্ষিণ সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ পুলিশের হয়রানি নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। অন্যদিকে, নির্বাচনি প্রচারণায় হামলার অভিযোগ এনে নিরাপত্তা চেয়ে এবং আওয়ামী লীগের উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।     

বিএনপির ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্বাচন কমিশন সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় হামলাও করছে। কিন্তু, কমিশন এর বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোশাররফ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনি মাঠে আছি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে চাই। তবে, নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী করণীয়।   

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, সিপিবির আহম্মেদ সাজেদুল হক রুবেল, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান ও পিডিপির শাহীন খান। আর দক্ষিণে মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, এনপিপির বাহারানে সুলতান বাহার, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।

আরও পড়ুন: 

আমি তো পোস্টারই লাগাতে পারছি না: আয়াতুল্লাহ