লেখক মুশতাক স্মরণে নাগরিক সমাবেশ

কার্টুনিস্ট কিশোরের আঁকা প্রতিবাদমূলক একটি কার্টুন ছবি ফেসবুকে নিজের আইডিতে শেয়ার করার অপরাধে লেখক মুশতাককে গ্রেফতারের পর কারাগারে তার মৃত্যু হয় গত বছর। ওই ঘটনার বিচারের দাবিতে স্মরণসভা করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় কয়েকটি দলের শীর্ষনেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিলের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অনেক বুদ্ধিজীবী আছে, যারা সরকারের সঙ্গেও আছে, আবার আমাদের সঙ্গে এসে কথা বলে। তারা আমাদের কোনও সঠিক দিশা দেখাতে পারেনি। এখন দরকার রাস্তার আন্দোলন। একটা মানুষকে কী রকম নির্যাতন করে মারা হয়েছে। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে যেভাবে আমরা একটা দিবস পালন করছি আর কেউ তো করছে না। সবাই কি ভয় পায়।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রতিটি স্তরে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যা এখন বাংলাদেশে আইনি প্রক্রিয়া বলা হয়। দেশে যা ঘটছে, তা মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। বাংলাদেশের মানুষ এই আইনি ব্যবস্থাকে নিয়ে নানামুখী হয়রানির মধ্যে আছে। ক্ষমতায় থাকাই নাকি তাদের জীবনের নিরাপত্তা। কাজেই গদি ধরে রাখতে তাদের জীবন রক্ষার্থে এ্ আইন প্রয়োগ করেছে। এই সরকারকে ক্ষমতায় রেখে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে না।’

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘লেখক মোশতাক হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই হত্যার বিচার হওয়া দরকার। বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের মৌলিক অধিকার।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি খারাপ আইন। একটি খারাপ আইন যখন একটি খারাপ শাসকের হাতে থাকে, কর্তৃত্ববাদী ও সৈরাচার সরকারের হাতে থাকে, তখন সেটা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।’

বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘লেখক মুশতাককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। তিনি নির্লোভ মানুষ ছিলেন। এমন একজন মানুষের আত্মসম্মান বোধ ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মুশতাককে গ্রেফতার ও আটকে রাখা এবং মৃত্যু যেষ প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে। সে প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের মুখ খুলতে দেওয়া হয় না।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জুমে বলেন, ‘এ একনায়ক ভোট ডাকাত অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হলে সকল বিরোধী দল একসঙ্গেরাস্তায় নামতে হবে।’

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, ‘লেখক মুশতাক ভাইয়ের এই পরিণতির প্রধান কারণ পদ্মা ব্যাংকের এমডি নাফিজ সারাফাত। যিনি এই সরকারের ব্যাংক খাতের মাফিয়া। যার দুর্নীতি নিয়ে কিশোর একটি কার্টুন এঁকেছিল।’

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধন সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া।