সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চের গণমিছিল

দমন, নিপীড়ন, গ্রেফতার ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এবং অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিতে শুক্রবার (১১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণমিছিল করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মঞ্চের নেতারা। 

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকতে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। বারবার সংবিধানের কথা বলছে। সংবিধান কী কোরআনের আয়াত যে বদলানো যাবে না? সরকার তো কতবার সংবিধান সংশোধন করেছে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কত আইন যুক্ত হয়েছে তাতে কি সংবিধান থাকে নাই? এই সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ আদালত থেকে জোর করে আইন পাস করিয়ে নিয়েছে। সরকার আমাদের নেতাকর্মী এবং তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সাজা দিয়ে আন্দোলন দমাতে পারেনি।

তিনি বলেন, বিজয়ের যে গণমিছিল শুরু হয়েছে তাতে সরকার যতই নির্যাতন করুক না কেন আমাদের আন্দোলন থামাতে পারবে না। সরকার বারবার বলছে, তারা অতীতের মতো ভালো ভোট দেবে। আমরাও বলে দিতে চাই, অতীতের মতো ভালো ভোট দিলে সরকার অতীত হয়ে যাবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন,  সরকার বিদেশি সংস্থা দিয়ে জরিপ করিয়েছেন, যে ৭০ ভাগ লোক নাকি শেখ হাসিনার সরকারে খুশি। ভালো কথা, তাহলে তারা অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক। ৭০ ভাগ কেন, ৮০ ভাগ জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে আমরা স্যালুট দিয়ে মেনে নেবো। তবে এইসব রিপোর্ট যে ভুয়া, তা আওয়ামী লীগও ভালোভাবে জানে। এইজন্য সংবিধানের দোহাই দিয়ে নিজের অধীনে নির্বাচন জায়েজ করতে চায়। বেআইনি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোনও নির্বাচন বৈধ হতে পারে না। আর সে কারণেই বর্তমান সরকার আইনের দিক থেকে অবৈধ।

গণমিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের একটা প্রতিনিধিদল দিল্লিতে গিয়েছিলেন। তারা কেন গিয়েছিলেন?  আগামী নির্বাচন নিয়ে দেন-দরবার করতে। গতকাল তারা একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন নির্বাচন নিয়ে ভারত সরকার কিছু বলে নাই। বলেছে (ভারত) সংবিধান মতোই নির্বাচন করেন, তারা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। সরকার যদি সংবিধান মতো হাঁটে তাহলে জাতীয় সংসদে সরকারের যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তারা চাইলেই যেকোনও সময় নতুন সংসদ ডেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিধান যুক্ত করতে পারে। সরকারের যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে তাহলে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নাই। নতুন সংসদ ডেকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তারা চালু করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে আগুন নিয়ে খেলছে, তাতে যদি আগামী ২৩-২৪ সালে আবার জোর জবরদস্তি করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে তাহলে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। যদি আপনারা সত্যি সত্যি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা দেখতে চান তাহলে আজ বিরোধীদলের যে দাবি, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যা গ্রহণ করেছে–দ্রুত সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে, পার্লামেন্ট বাতিল এবং একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই কেবল দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকার অসংবিধানিক কায়দায় সংবিধান পরিবর্তন করে অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, তারা বিচার পরিচালনা করে, আইন বানায় বেআইনি কাজ করার জন্য। তারা দেশের মানুষ, পরিবেশ-প্রকৃতি, ভবিষ্যৎ সবকিছুকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে।

আজ তারা দেশকে এমন একটি অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে, নির্যাতনের মুখে মানুষকে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কোনও সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ চলতে পারবে না। সে জন্য আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) বলেছি, এদেরকে (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে।

সমাবেশ শেষে গণতন্ত্র মন্ত্র অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও বর্তমান অবৈধ সরকারের পতনের দাবিতে গণমিছিল বের করে। মিছিলটি প্রেস ক্লাব হয়ে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট ঘুরে পল্টনে এসে শেষ হয়।