নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে রাজধানীতে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় তত সরব হচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে ২৭টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় বেশি দেখা যাচ্ছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি ও নির্বাচনি পরিবেশ উৎসবমুখর করতে নিজ নিজ এলাকায় নানা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে ভোট চাচ্ছেন প্রার্থীরা।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালান। এছাড়া শহরজুড়ে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে মাইকিং করা হয়।
এদিন বিকালে রাজধানীর আদাবর থানার শেখেরটেক থেকে নির্বাচনি গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনে নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। গণসংযোগকালে স্থানীয়দের কাছে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে। তাই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ দিন।’
দুপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা ৮ আসনে নৌকার প্রার্থী কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে স্বাচিপ এবং সকল অ্যাসোসিয়েশনের মঙ্গে মত বিনিময় সভার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বিকালে নিজ নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে নির্বাচনি সভা করেন নাসিম। এরপর তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি বাংলাদেশের উদ্যোগে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, কাকরাইলে পিঠা উৎসব অংশগ্রহণ করেন।
প্রচারণার সময় বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ঢাকা ৮ আসনের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য আমি কাজ করবো। এই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা হলো মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত একটি এলাকা। এখানে যাতে শিক্ষার পরিবেশ ঠিক থাকে সে জন্য আমি কাজ করবো। নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও কাজ করবো।’
এছাড়া ঢাকা-৬ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা-৮ আসনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ঢাকা-১৬ আসনের আলহাজ ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লার পক্ষে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে নির্বাচনি প্রচারণায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। তিনি বলেন, ‘সকলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে, আমরা কাউকে বাধা দেবো না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আপনাদের সহনশীল হতে হবে এবং সকলকে ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আগামী ৭ জানুয়ারি ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার থাকলেও বিএনপির ব্যাপারে আমাদের কোনও ছাড় নাই। ওই যুদ্ধাপরাধীদের দোসরদের বাংলাদেশে নির্বাচন করার কোনও অধিকার নাই।’
এদিকে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা ১৮ আসনের ৪৭নং ওয়ার্ড, ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার সংলগ্ন এলাকা, আব্দুল্লাপুর বেড়িবাঁধ, ১০ নম্বর সেক্টর ১ নম্বর রোড ব্রিজ সংলগ্ন শুক্কুর মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন এলাকা এবং তুরাগ থানাধীন ৫৩নং ওয়ার্ড, ফুলবাড়িয়া নতুন রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের।
এ সময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকল সড়কের উন্নয়ন করবো। ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ সিস্টেম উন্নত করবো। শিক্ষিত প্রজন্ম গড়তে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবো। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ লাঙ্গলকেই বিজয়ী করবে।’