জাতির জনকের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

 আজ ১৭ মার্চ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী। একই সঙ্গে সরকারিভাবে দিবসটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটির দিন।জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকরা সপরিবারে হত্যা করেন তাকে।
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে। দিবসটি পালনের জন্য সরকারিভাবেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিবসটি উদযাপনের মধ্যদিয়ে আজকের প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীতে জাতি গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘আমরা প্রিয় বাংলাদেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। শিশুদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে তাদের ব্যক্তিত্ব গঠন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাদেরকে প্রিয় মাতৃভূমি ও জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে। তাদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অবশিষ্ট পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আদালতে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার ও রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি আজ কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হয়েছে।

সরকারি কর্মসূচি: বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আজ সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। দেশব্যাপী সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করা হবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: ভোরে সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া সেখানে শিশু সমাবেশ,আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত কর্মসূচি দেশবাসীর সঙ্গে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সব শাখাসহ আওয়ামী লীগ,সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ইএইচএস/এমএসএম