মিলাদের আয়োজন করতে চেয়ে খালেদার ধমক খেল ছাত্রদল

দীর্ঘদিন রাজপথে কর্মসূচি না থাকায় দলের ভ্যানগার্ড ছাত্রদলের উপর অনেকদিন ধরেই ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এবার ফের নতুন করে তার কাছে ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। সম্প্রতি এক রাতে তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেখা করতে গিয়ে মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা বলায় ছাত্রদল নেতাদের ধমক দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা খুন হয়, তোমরা কোনও কর্মসূচি দিতে পারো না। তোমরা মিলাদ দাও। এটা দিয়ে হবে না। কর্মসূচি দিতে হবে রাজপথে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগরের একাধিক নেতার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মাহতাব উদ্দিন জিমি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ৬ এপ্রিল বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এ সময় সংগঠনের সেক্রেটারি আকরামুল হাসান, সহ সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, বিএনপির সাবেক সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোকতাদির হোসেন তরুসহ ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ শাখার ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

৬ এপ্রিল রাতে খালেদা জিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মাহতাব উদ্দিন জিমিসহ ছাত্রদল নেতারা।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, আট থেকে ১০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়াকে ছাত্রদলের এক নেতা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাকির নিখোঁজ হওয়ার কারণে মিলাদ মাহফিলের কথা জানান। পরদিন বিকালে আয়োজিত ওই মিলাদ মাহফিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতার কথা শোনার পরই খালেদা জিয়া উপস্থিত নেতাদের ধমক দেন। তিনি বলেন, মিলাদ দিয়ে কি হবে। তোমাদের রাস্তায় নামতে হবে। এ সময় তিনি সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজন মৃধার নিহতের ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তার ভাষ্য ছিল অনেকটাই এরকম, তোমরা মিলাদ কর, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মারা গেল, এটা নিয়ে কথা বলো না।

খালেদা জিয়ার ধমক প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ওই সময় উপস্থিত থাকা প্রায় চারজনকে ফোন করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফোন ধরলেও স্বনামে মন্তব্য করতে রাজি হননি ছাত্রদলের এক নেতা। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ম্যাডাম তো আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের উপদেশ, নির্দেশ দিবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।

আরেক নেতা জানান, সংগঠনের কর্মসূচি দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা তো সভাপতি আর সেক্রেটারির। তারা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। যদিও সুজন মৃধা ছাড়াও সোহাগী জাহান তনু বিষয়েও সাংগঠনিকভাবে কোনও কর্মসূচি দেয়নি ছাত্রদল।

গত ৩১ জানুয়ারি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ছাত্রদলের অভিভাবক খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়েছিলেন, ছাত্রদের স্বার্থ নিয়ে ছাত্রদলকে কাজ করতে। পাশাপাশি ব্যানার, লিফলেট, স্লোগানেও পরিবর্তন আনতে। ওই সময় তিনি ছাত্রদলের উদ্দেশে বলেছিলেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তোমাদেরও পরিবর্তন হতে হবে। খালি স্লোগান দিলেই চলবে না। কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। যদিও তিনমাস পার হলেও খালেদা জিয়ার নির্দেশ মানার মতো কোনও কর্মকাণ্ড শুরুই করতে পারেনি ছাত্রদল।

/এসটিএস/এমপি/