ঐক্যবদ্ধ জনগণই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্মাতা: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল 

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিম বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ জনগণই হচ্ছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্মাতা। গণতান্ত্রিক অধিকার কায়েমের পথ কোনও দেন-দরবার নয়, অধিকার কায়েমের পথ হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান। চব্বিশের জুলাইয়ে হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক জনতা সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বলেই সংঘটিত হয়েছিল এই গণঅভ্যুত্থান ।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল হাকিম, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ কাইউম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সভাপতি দীপা মল্লিক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক সাইফুর রুদ্র। 
 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আলোচনা সভার কাজ শুরু হয়।  

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, শ্রমিক, কৃষক, জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার লক্ষ্যে তাই আমাদের সর্বত্র শ্রমিক, কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সারা দেশে লাখ লাখ সদস্য সংগ্রহ করতে হবে। 

সজীব রায় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব আবারও নতুন করে জানলো বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের দেশ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সফলতা হলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের উচ্ছেদ।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ ছাত্র সমাজের সাহসী ভূমিকা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে বর্তমানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি প্রভৃতি দলভুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

মুহাম্মদ কাইউম বলেন, ব্রিটিশ শাসনের অবসান বা পাকিস্তানি শাসন উচ্ছেদ হলেও বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনও মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। শাসক বদলালেও শোষণ, বৈষম্য, নির্যাতনের অবসান হয়নি। ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে সাধারণ জনগণের মধ্যে তাই নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

ডা. আবদুল হাকিম প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনে সর্বহারা শ্রেণির নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক সমাজের অবসান ঘটাতে হবে।

সৌরভ রায় বলেন, দেশে সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে আবারও লুণ্ঠন দুর্নীতি শুরু হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের শিল্প কৃষি বিকাশবিরোধী, জাতীয় স্বার্থবিরোধী এক অধীনতামূলক চুক্তি করা হয়েছে।  

সাইফুর রুদ্র বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশে শিল্পভিত্তি স্থাপনে সরকারের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এরাই আবার বলছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অতীতের সরকারগুলোর মতো বর্তমান সরকার পাটকল চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিকায়ন না করে তা ব্যবসায়ীদের ইজারা দিতে চলেছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

রফিক আহমেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের শ্রমজীবী জনগণের শ্রেণি সচেতন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

দীপা মল্লিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র সমাজ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন উচ্ছেদের পাশাপাশি ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। এখন সময় এসেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য থেকে দেশকে মুক্ত করার।