কীভাবে চলছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিবন্ধিত ১৪ রাজনৈতিক দল

২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন করে ১৪টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, আগের ৪৯টিসহ দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা এখন ৬৩টি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনও একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। তবে বাকি ১১টি কোনও আসন পায়নি। এমনকি এসব দলের বেশিরভাগ প্রার্থীর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অনেক দলের তেমন নেতাকর্মীও নেই বললে চলে। একটি কার্যালয় ভাড়া নিয়ে কয়েকটি চেয়ার-টেবিল পেতে এবং ব্যানার-সাইনবোর্ড টানিয়েই কোনোমতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে দলগুলো।

সরেজমিন দেখা গেছে, কয়েকটি দলের কার্যালয় বহুতল ভবনে। বাইরে সাইনবোর্ড না থাকলে সেগুলো দলীয় কার্যালয় কিনা বোঝার উপায় নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও খুব একটা চোখে পড়ে না। অনেক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও রাজনীতিতে অপরিচিত। মাঝে-মধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাব ও পল্টনকেন্দ্রিক পাঁচ থেকে সাত জনের মানববন্ধনের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন তারা। কয়েকটি দলের জেলা, মহানগর ও থানা কমিটি থাকলেও সেগুলোর সংখ্যাও হাতেগোনা।

নতুন নিবন্ধন পাওয়া ১৪ দল

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন পাওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

উত্থান-পতনে আলোচনায় এনসিপি

জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণরা প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি নামে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন তারা। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শাপলা প্রতীকে নিবন্ধন পায় দলটি।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা সফল হন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টিতে জয়লাভ করে এনসিপি। পরবর্তী সময়ে সংসদে প্রাপ্ত আসন অনুপাতে দলগতভাবে একটি এবং জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া একটি নারী আসনসহ তাদের মোট আসন দাঁড়ায় আটটি। দলীয় প্রধান নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে নির্বাচনের আগে ও পরে দলে এক ধরনের উত্থান-পতন দেখা যায়। অভিমান করে তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও মুশফিক উস সালেহীনসহ অনেক তরুণ নেতা দল ছাড়েন। আবার ইসহাক সরকার, রাফে সালমান রিফাত, আলী আহসান জুনায়েদ ও রিফাত রশীদসহ কিছু পরিচিত মুখ দলে যুক্ত হন। দেশজুড়ে জুলাই পদযাত্রায় কয়েকটি জেলায় হামলার শিকার হওয়া এবং কিছু নেতার তির্যক বক্তব্যের কারণেও দলটি বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে।

নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়

আবারও বিএনপির যুগপতে নাগরিক ঐক্য

আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে ২০১২ সালের ১ জুন নাগরিক ঐক্য নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। দলটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার। বিগত সময়ে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ছিল দলটি। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন পায় নাগরিক ঐক্য।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শরিক দল হিসেবে একসঙ্গে নির্বাচন করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলটির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে দলীয় প্রতীক কেটলি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় নাগরিক ঐক্য। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করলেও সম্প্রতি আবারও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করছে দলটি বলে জানিয়েছে দলীয় একটি সূত্র।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কেটলি প্রতীকে তারা ১২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসন থেকে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনের পরও সারা দেশে দলীয় কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, দলের ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ৩৬টি জেলা কমিটি কাজ করছে।

সাবেক দলের সঙ্গেই সক্রিয় আমার বাংলাদেশ পার্টি

জামায়াতের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বহিষ্কৃত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। পরে সাবেক শিবির নেতাদের সমন্বয়ে ২০২০ সালের ২ মে প্রথমে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন তারা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) নামে নিবন্ধন লাভ করে দলটি। এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বিগত সময়ে দলটি এককভাবেই কর্মসূচি পালন করে আসছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি ঐক্যে যোগ দেয় দলটি। এতে জোট থেকে ছাড় পান তিন শীর্ষ নেতা। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার নির্বাচন করে হেরে গেলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পান।

নির্বাচনের পরও জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন তারা। দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জোটের বাইরেও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে। তাদের ৪৫টি সম্পাদকীয় পদ ও ৪০টির বেশি জেলা কমিটি সক্রিয়।

সাধারণ সম্পাদকবিহীন গণঅধিকার পরিষদ

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠা হয় গণঅধিকার পরিষদ। এর প্রতিষ্ঠাতা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় প্রধান নুরুল হক নূর ট্রাক প্রতীকে পটুয়াখালীর একটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী করে বিএনপি সরকার।

নির্বাচনের আগে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন রাশেদ খান। তিনি পরাজিত হন। সম্প্রতি তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী-২ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার আর দলে ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রায় ৭ মাসেও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর ভিপি নূরও দলীয় কর্মকাণ্ডে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না।

এর মধ্যেই কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের দলীয় এমপি আমীর হামজার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আবারও দেশব্যাপী আলোচনায় আসে দলটি। কুষ্টিয়ায় নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল করে গণঅধিকার পরিষদ। সমসাময়িক ইস্যুতে দলের অবস্থান গণমাধ্যমে তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র হাসান আল মামুন।

দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই চলছে। ডিসেম্বরে কাউন্সিলের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকসহ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

রাজপথের কর্মসূচিতে ভাটা গণসংহতির

নিবন্ধন না থাকলেও বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে রাজপথে ভূমিকা পালন করে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলন। দলটি ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর নিবন্ধন লাভ করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে মাথাল প্রতীকে জয়লাভ করেন দলের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। রাজধানীর হাতিরপুলে দলীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে দলটি। এতে নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, তাছলিমা আক্তারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

এর আগে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। দলটি আগের মতো রাজপথে সক্রিয় নেই বলে নানা আলোচনা রয়েছে।

যদিও দলটির কোনও নেতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জনদাবি নিয়ে সক্রিয় বাসদ (মার্কসবাদী)

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) বাম দলগুলোর জোট বাম গণতান্ত্রিক জোটের সদস্য। এর সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন মাসুদ রানা। এছাড়া শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য ও সীমা দত্ত।

বাসদ (মার্কসবাদী) দলের কার্যালয়

২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর কাঁচি প্রতীকে নিবন্ধন লাভ করে দলটি। সম্প্রতি তোপখানা রোডে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তরুণ নেতাকর্মীদের নিয়ে পাঠচক্র করছেন শীর্ষ নেতারা।

দলের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম হচ্ছে। জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব কর্মসূচিতেই সক্রিয় তার দল। তিনি আরও জানান, তার দল গত নির্বাচনে কাঁচি প্রতীকে ৩৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বর্তমানে তাদের ২৩টি জেলা কমিটি রয়েছে।

নিজস্ব কর্মসূচি নেই ডেভেলপমেন্ট পার্টির

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিবন্ধন পাওয়ার তালিকায় স্থান পেলেও শেষ পর্যন্ত দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চান ও সেক্রেটারি জেনারেল নিজামুল হক নাঈমের বিরুদ্ধে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তখন তাদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তবে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ফুলকপি প্রতীকে নিবন্ধন পায় দলটি। নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দলের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চান ময়মনসিংহ ও সেক্রেটারি জেনারেল নিজামুল হক নাঈম ভোলার একটি আসনে নির্বাচন করে দ্বিতীয় হন।

নির্বাচনের পর ১১ দলের বিভিন্ন জনসভায় দুই শীর্ষ নেতাকে দেখা গেলেও তাদের নিজস্ব কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়।

একজোট ছেড়ে আরেক জোটে লেবার পার্টি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে শরিক দল হিসেবে রাজপথে ছিল ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি। দলটি ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর নিবন্ধন লাভ করে।

তবে নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে আসন ছাড় পায়নি। শেষ মুহূর্তে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেয় দলটি। তবে শেষ মুহূর্তে যোগ দেওয়ায় সেখান থেকেও আসন পায়নি। এককভাবে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পায়নি।

নির্বাচনের পর দলটির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জামায়াতের বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য রাখছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, তার দলের ৪৩টি জেলা কমিটি রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে ১১ দল থেকেই ভূমিকা রাখতে চান।

রাজপথে নেই আমজনতা

জুলাই আন্দোলনে রাজপথে ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন মো. তারেক রহমান। তার রাজনৈতিক দলের নাম আমজনতার দল। দলীয় কার্যালয় বিজয়নগরের জামান টাওয়ারে।

নির্বাচনের আগে শর্ত পূরণ না করায় তার দলকে নিবন্ধন দেয়নি ইসি। পরে দীর্ঘদিন অনশন করায় বিশেষ বিবেচনায় ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রজাপতি প্রতীকে নিবন্ধন পায় দলটি।

আমজনতা দলের কার্যালয়

দলীয় কর্মকাণ্ড তেমন দেখা না গেলেও টকশোতে সক্রিয় দলটির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান। এ দলের সভাপতি মিয়া মশিউজ্জামান।

দলটির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান জানান, তার দলের ৪৩টি জেলা কমিটি রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন কারণে রাজপথে দলীয় কর্মসূচি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

কোনোমতে টিকে আছে আরও পাঁচ দল

এর বাইরে কোনোমতে টিকে আছে নতুন নিবন্ধিত আরও পাঁচটি দল। মাঝে-মধ্যে প্রেসক্লাব ও পল্টন এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন দলগুলোর নেতারা।

এসব দলের মধ্যে রয়েছে ছরয়ার কামাল আজিজী ও মাওলানা মুসা বিন ইজহারের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম, সুশান্ত চন্দ্র বর্মণ ও ইঞ্জিনিয়ার নাছির উদ্দিন শিকদারের বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি, ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামীম কামাল ও মো. আযম খানের জনতার দল, সুকৃতি মন্ডল ও দিলীপ দাসের বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি এবং মো. আবু হানিফ হৃদয়ের বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি।

যদিও একাধিকবার চেষ্টা করেও এসব দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।