মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর-লুট: সরকারের কাছে তাসনিম জারার কিছু প্রশ্ন

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচের কার্যালয় ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ও চিকিৎসক তাসনিম জারা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রাখেন।

তাসনিম জারা লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছর ধরে মিরপুরের দরিদ্র মা ও শিশুদের নামমাত্র খরচে সেবা দিয়ে আসছে। হামলায় টিকা ও টিকার রেজিস্টার লুট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় না রাখলে টিকা নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজ থেকে বের করা বা মেঝেতে পড়ে থাকা টিকা আর শিশুদের দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, টিকার রেজিস্টারে কোন শিশু কোন টিকা পেয়েছে এবং কোনটি বাকি রয়েছে, তা লেখা থাকে। রেজিস্টার না থাকলে অনেক শিশুর পরের ডোজ মিস হতে পারে।

হামলায় দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও নেই উল্লেখ করে তাসনিম জারা প্রশ্ন করেন, যেসব অন্তঃসত্ত্বা মা বেসরকারি ক্লিনিকে টাকা দিয়ে আলট্রাসাউন্ড করাতে পারেন না, তারা এখন কোথায় যাবেন। তাঁর দাবি, ওই সপ্তাহেই সেখানে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। টিকা শুরুর আগের রাতে টিকাদান কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাসনিম জারার প্রথম প্রশ্ন, থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে দুইশো মানুষ ভারী মেশিন নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিলেও পুলিশ তা ঠেকাতে পারল না কেন। কেন্দ্রের লোকজন পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, তখন পুলিশ কী করছিল।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও বলেছেন, ঘটনাটি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব নয়, সময় নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

দ্বিতীয় প্রশ্নে তাসনিম জারা জায়গাটি দখলের আগের চেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, ক্ষমতায় আসার পর দখলদাররা কেন সাহস পায় এবং রাজনৈতিকভাবে কারা তাদের উৎসাহ দেয়। জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তৃতীয় প্রশ্নে তিনি জানতে চান, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিনা। কুয়াকাটায় দোকান দখল, লালমনিরহাটে বিচারাধীন জমি দখল এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ি দখলের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জয়পুরহাটে এক নেতাকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বহিষ্কার বিচারের বিকল্প নয়।

চতুর্থ প্রশ্নে টিকা ও টিকার রেজিস্টার লুটের বিষয়টি তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, এটি শুধু একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, সরকারের টিকাদান কর্মসূচির ওপরও হামলা। কোন শিশুর কোন টিকা বাকি, তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব কে নেবে; এ প্রশ্নও রাখেন তিনি।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ অর্থ লুটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।