ঠাকুরগাঁওয়ে প্রমাণ হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কাজে দেবে না: রাশেদ খাঁন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের জয়ের পর জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে, জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লিখেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন জানিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে একাধিক সমালোচনা করেন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দিবে না। অভিনন্দন এমপি মির্জা ফয়সল আমীন....!’

জামায়াতের নেতাদের সমালোচনা করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জনগণ বুঝে গেছে যে, জামায়াতের মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছে।’ দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে পরকীয়ার সংবাদ প্রকাশ, রোজা ও পূজাকে একইভাবে দেখার মনোভাব এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বক্তব্য নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা নিজের দলের নেতাকর্মীদেরই জান্নাতের পথ দেখাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন একটি দল কীভাবে জনগণকে হেদায়েতের পথ দেখাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের বক্তব্য উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন লেখেন, জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারীরা পথভ্রষ্ট—এমন মন্তব্য করেছেন খতিব। এ ছাড়া জামায়াতের ধর্মীয় অবস্থান, শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এবং দলটির নেতাদের বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ১৮৫টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।

ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এবারের উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক নির্বাচনে অংশ নেন।