আ. লীগের দুঃসময়েও তৃণমূল নেতারা ভুল করেননি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাআওয়ামী লীগের দুঃসময়েও তৃণমূল নেতারা ভুল করেননি বলে মন্তব্য করেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ দলটির শেকড় অনেক শক্ত। এই অবদান তৃণমূল নেতাকর্মীদের।  বৃহস্পতিবার  বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আওয়ামী  লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে দলটির শেকড় অনেক শক্ত, এই অবদান তৃণমূল নেতাকর্মীদের। আঘাত আমাদের বিরুদ্ধে বারবার এসেছে, সব আঘাত সহ্য করে আমরা এগিয়ে গেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় নীতি-আদর্শ নিয়ে থেকেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, তখনও সেই আদর্শ নিয়ে কাজ করেছি। এখনও দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতা আমাদের যে আদর্শ দিয়ে গেছেন, আমরা সেই আদর্শ নিয়েই আছি। জাতির পিতা বলতেন, ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। কাজেই আমরাও কখনও ভিক্ষুকের জাতি হতে চাই না।

যে সংগঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, সেই সংগঠনই জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাঙালি জাতি যা পেয়েছে আওয়ামী লীগের কাছে থেকেই পেয়েছে। আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়েছি, অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়েছি।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা যদি সততার সঙ্গে কাজ করতে পারে সেই সততাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সততার শক্তি দিয়ে যেকোনও দুর্যোগ, যেকোনও দুর্বিপাক মোকাবিলা করা যায়।

২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রতিটি নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে সততার সঙ্গে সংগঠনকে যেমন গড়ে তুলতে হবে, নিজের জীবনকেও সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।  

উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কাজ করছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাবা-মা সব হারিয়েছি। আমার হারানোর কিছু নেই পাওয়ারও কিছু নেই। তিনি বলেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, দারিদ্র্য দূর করা, মানুষের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ কাজ করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নীতি এদেশ কখনও ভিক্ষুকের জাতি হয়ে থাকবে না, মাথা তুলে দাঁড়াবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা সবাই করেছেন। সেই আইয়ুব খান থেকে শুরু করে, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া সবাই চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে এমনভাবে অত্যাচার করা হয়েছে, অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু পারেনি।

স্বাধীনতাবিরোধীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনবার্সন, তাদের পুরস্কৃত করা, মন্ত্রী বানানোর  প্রসঙ্গ তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জিয়াউর রহমান রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দালালদের পুনর্বাসন করেছেন, পুরস্কৃত করেছেন। জেনারেল এরশাদও কম যাননি আর খালেদা জিয়াতো এক ধাপ ওপরে।

বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার শত্রু ও তাদের দালালরা যখন দেখেছে বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখা যাবে না, তখন ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অনুপম সেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম রহমউ উল্লাহ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

 /পিএইচসি/এমএনএইচ/