উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট ঘটা করে বিএনপির চেয়ারপারসন জন্মদিন পালন করে আসছেন। এবার প্রথম জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত রয়েছেন খালেদা জিয়া।
এদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করার কারণ তুলে ধরে কথা বলেন। উল্লিখিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও বন্যা পরিস্থিতি। ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন মনে করেন, বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে জন্মদিন উদযাপন সমীচীন হবে না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবার খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করেননি। তিনি ও তার দলের নেতারা এই নিয়ে কিছু কারণ দেখিয়েছেন। সুতরাং সহজেই বোঝা যায়, দুর্যোগ ও গুলশানের ঘটনার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়া ভনিতা করছেন। তবে বিএনপির জোট সঙ্গী জামায়াত নির্ধারিত দিনটি তাদের জন্য ঠিকই রেখে দিয়েছেন খালেদা। তাই এবার জন্মদিন পালন না করার ঘটনায় এত উৎফুল্ল হওয়ার কিছু নেই।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়ার এবার জন্মদিন পালন না করার কিছু কারণ তুলে ধরে বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। জন্মদিন পালন না করার পেছনে কোনও কারণ না দেখালে হয়তো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন তিনি। কারণ দেখানোয় বোঝা যায় তার ভেতরে দুরভিসন্ধি রয়েই গেছে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন নিয়ে তার দলের মহাসচিব যে অজুহাত দেখিয়েছেন, তাতে প্রমাণিত হয়েছে এবার জন্মদিন পালন না করা নিয়েও খালেদা জিয়া নাটক করেছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার এ ঘোষণাকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করি না। কারণ খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন না করার পেছনে যে কারণ তুলে ধরেছেন, তাতেও তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার অপপ্রয়াস থেকে ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করে আসছেন খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধুকে খাটো করতে গিয়ে ইতোমধ্যে খালেদা জিয়া নিজেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। জনবিচ্ছিন্নতা এমন পর্যায়ে গিয়েছে বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার দুঃসাহস হারিয়ে ফেলেছে খালেদা। তাই জন্মদিন পালন করা থেকে ধীরে-ধীরে সরে আসতে শুরু করেছেন তিনি। তিনি বলেন, এবার জন্মদিন পালন না করায় খালেদা জিয়াকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। আমি মনে করি, এ কারণে সাধুবাদ জানানোর কোনও সুযোগ নেই। কারণ তার জন্ম তারিখটি ভুয়া।
এদিকে, গত বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী শোকের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নানা আলোচনায় সভায় যোগ দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আমরা জানি আপনার জন্মদিন ১৫ আগস্ট নয়। যদি তা হয়েও থাকে জাতির শোকের এই দিনটিতে আপনি জন্মদিন পালন না করে একদিন আগে অথবা একদিন পরে পালন করুন। কেক কাটুন। তা হলেও জাতি স্বস্তি পাবে, আপনাকে সাধুবাদ জানাবে। গত বছর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সে আহবানে সাড়া না দিলেও এ বছর হলি আর্টিজানের ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে জন্মদিন পালন থেকে সরে এসেছেন।
আরও পড়তে পারেন: মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও জনকের উচ্চারণ ছিল ‘অ্যাই বেয়াদবি করছিস কেন’?
/এমএনএইচ/