প্রধান বিচারপতির ছুটি আন্দোলনের বিষয় নয়: সেতুমন্ত্রী

ওবায়দুল কাদের (ছবি: সংগৃহীত)প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি আইনমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বার বার কথা বলার প্রয়োজন নেই। মানুষ অসুস্থ হতে পারে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কারও অসুস্থাতায় কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সেটি সংবিধানের ৯৭ ধারায় বলা আছে। এটি আন্দোলনের বিষয় নয়, আইনগত বিষয়।’ মঙ্গলবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা তাহার অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচাপতি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়া নিয়ে যে দল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই দলের নেত্রী (খালেদা জিয়া) কী কারণে এতদিন বিদেশে আছেন? অসুস্থতার কথাই তো বলেছিলেন। সময় ছিল দুই মাস। দুই মাস পেরিয়ে তিন মাস, তিন মাসের পর আরও কয়েকদিন। তিনি এখনও এলেন না।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে আজ সারা দুনিয়ায় আলোড়ন চলছে। অথচ সেই আলোড়ন বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যে পেলাম না। সংকটের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের পার্টিসহ আমি নিজেই শেখ হাসিনার নির্দেশে রোহিঙ্গাদের মাঝে পড়ে আছি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘লোক দেখানো ফটোসেশনের জন্য বিএনপির কেউ কেউ সেখানে (রোহিঙ্গা ক্যাম্পে) গেলেন। আমি সেখানে ২০ দিন ছিলাম। আর মির্জা ফখরুল গেলেন মাত্র একদিন। একদিন গিয়েও শুধু অভিযোগ করেছেন। সারা দুনিয়া বলছে, সরকার সফল, অথচ বিএনপি বলছে ব্যর্থ। দেশের জনগণ বলছে, এ সংকটে সময়োচিত নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, কিন্তু এ প্রশংসা বিএনপি করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, লন্ডনে বসে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রের কী জাল বুনছেন, তা জাতি জানতে চায়। এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে সাহায্য করার জন্য আমরা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, এমআইসিক্সসহ ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আমরা সহযোগিতা চাই।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুই জন মিলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। আমরা মনে করি, এর সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তাই তিনি দুনিয়ায় বিপন্ন মানবতার বাতিঘরে পরিণত হয়েছেন। তাই জনগণের যে আকুতি নেত্রী দেশে ফিরে এলে দেশবাসীর পক্ষে বিশিষ্ট নাগরিকরা তাকে সংবর্ধনা দিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  যাবেন। চলার পথে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে যানজটে বিঘ্ন না ঘটিয়ে সাধারণ মানুষ তাকে সংবর্ধনা জানাবে।’

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব সারা দুনিয়ায় সমাদৃত হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব জনমতের চাপে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সাং সু চির একজন মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। বৈশ্বিক চাপের মুখে মিয়ানমারে মন্ত্রীর নরম সুর। ওই দেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের অবস্থানগত পরিবর্তন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের পরিচয়। শেখ হাসিনা জাতিসংঘসহ সারা বিশ্বের নেতাদের বোঝাতে পেরেছেন, এটা গণহত্যা, জাতিগত নিধন। জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে দু’টি দেশ ছাড়া সব দেশই এটাতে সমর্থন করেছেন। এ দু’টি দেশ সরাসরি সমর্থন না করলেও একটা সহানুভূতির সুর দেখা গেছে। তাদের এ অবস্থান শেষ কথা বলে মনে করছি না।’

আগামী ৭ অক্টোবর জাতিসংঘের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে আসা উপলক্ষে গণসংবর্ধনা সফল করতে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়।

এতে  উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আফজাল হোসেন, শাম্মী আহমেদ, আমিনুল ইসলাম আমিন, বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুস সবুর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।