প্রসঙ্গত, রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আমরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কারণ পাকিস্তানিরা আমাদের গণতন্ত্র ও সব মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। সেই পাকিস্তানি কায়দায় দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ।’
খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরমাণু বোমা ছাড়া আর্থ-সামাজিক সব সূচক আমরা পাকিস্তান থেকে এগিয়ে। তাদের আছে পরমাণু বোমা, এটার আমাদের দরকার নেই। আমাদের পরমাণু বোমা আমাদের জনগণ। একাত্তরের চেতনায় জাগ্রত তরুণ সমাজই হলো আমাদের পরমাণু বোমা। খালেদা জিয়াকে সবিনয়ে বলবো, শত চেষ্টা করেও বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যখন দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করছি, তখন পাকিস্তানি সরকার জঘন্য ভাষায় কথা বলছিল, আপনি (খালেদা জিয়া) ও আপনার দল ছিল চুপচাপ। মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব কোনও টু শব্দও করেননি। সে দিন কেন চুপ ছিলেন, তার জবাব আগামী নির্বাচনে দিতে হবে। যুদ্ধ হবে ৭১-এর চেতনার সঙ্গে ৪৭ চেতনার।’
আমাদের ভুল হতে পারে কিন্তু চেতনা থেকে সরে যায়নি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার সম্প্রতি কলকাতা সফরে আমি সেখানকার সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলাম। সেখানে অনেকই প্রশ্ন করেছেন, আমরা কি আপস করছি? আজ অনেকেই তা ছড়াচ্ছে। যেন বন্ধুরা আমাদের ভুল বুঝে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা কারও সঙ্গে আপস করেন না। ’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, আমরা আত্মবিশ্বাসী সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ যা ডালপালা গজিয়েছে, তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মূলোৎপাটন করতে পারবো। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অর্জনের বাংরাদেশই বিজয়ী হবে।’
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি প্রফেসর অ্যামেরিটাস এ কে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জয় কে ভরদোয়াজ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুশারী প্রমুখ।