খালেদা জিয়ার বক্তব্য অসাংবিধানিক-উসকানিমূলক: আ. লীগ

আওয়ামী লীগশনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যকে উসকানিমূলক, অরাজনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের মতে, বিএনপি নেত্রীর উসকানিমূলক-অগণতান্ত্রিক আচরণকে মাথায় নিয়ে তার দলের কোনও নেতাকর্মী যদি অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, এর দায়ভার খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে। শনিবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় দেওয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এমন মন্তব্য করেন।

ক্ষমতাসীন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, ‘বিএনপির গণতান্ত্রিক সব কর্মকাণ্ডকে আমরা এপ্রিশিয়েট করি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, অধিকাংশ সময়ে এ দলটি আইন-বহির্ভূত ও অসাংবিধানিক রাজনীতির চর্চা করেছে। ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাদের দলীয় সভায় যেভাবে কথা বলেছেন, তাতে দলীয় নেতাকর্মীদের উসকানি দেওয়া হয়েছে। তার এ বক্তব্যের কারণে দেশে কোনও অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়ভারও তাকেই নিতে হবে।’

ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, বিএনপি ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। তাদের দল তারাই ভাঙছেন। ২০০৪-২০০৫ সালে আমরা বলতাম, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে যে দুর্নীতি-লুটপাট করছে, এ জন্য এই দলটিকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আজকে আমাদের সেই বক্তব্য সত্যি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা যে বক্তব্য রেখেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক কোনও আবেদনও নেই তার বক্তব্যে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন,  ‘বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা তাদের গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডেরই অংশ। এটাকে সাধুবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির গণতান্ত্রিক সব কর্মকাণ্ডকে এপ্রিশিয়েট করি। কিন্তু গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে বিএনপি নেত্রী যে অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক আইন-বহির্ভূত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, এর ফলে দেশে কোনও অঘটন ঘটলে এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে। বিএনপি যখনই অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে, তখনই তাদের দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নির্বাচন ঠেকানোর নামে অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে বলে বিরোধী দলেও থাকতে পারেনি। আবার ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক আচরণ করেছিল বলে বিরোধী দলের আসনে বসতে পেরেছিল। ফলে দেখা যায়, যখনই বিএনপি গণতান্ত্রিক পথে হেঁটেছে, তখনই তাদের লাভ হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, আইন আদালতের প্রতি তার শ্রদ্ধা নেই। খালেদা জিয়া নিজের রায় নিজেই ঘোষণা করে চলছেন, তার মানে তিনি জানেন, তিনি অপরাধ করেছেন, সাজাও পাবেন।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘খালেদা জিয়া দলের নির্বাহী কমিটির সভায় অসাংবিধানিক ও অরাজনৈতিক দাবি করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সেনা বাহিনীকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহির শামিল অপরাধ করেছেন।’